ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

জাবিতে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা



জাবিতে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা

মো নজরুল ইসলাম: ঢাকার সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টা ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪ দফা নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য হটলাইন চালু, পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণশ্রমিক ও দোকানকর্মীদের তথ্যভিত্তিক ডেটাবেইজ তৈরি, ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ, গেট ও সীমানা প্রাচীর মেরামত, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত আলো, এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি বসানো। প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা প্রহরী বাড়ানো ও নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ১১.৩০ মে রাতে, যখন আবাসিক হলে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের ভেতরে এক নারী শিক্ষার্থী বহিরাগত এক ব্যক্তির হামলার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা ১৩ মে রাতে পাঁচ দফা দাবি তুলে আন্দোলনে নামেন, আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশুলিয়া থানায় মামলা করে।

সাভারের এই ক্যাম্পাসে এক রাতের ঘটনা পুরো নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের চাপ, প্রশাসনের বৈঠক আর ১৪ দফা সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে এটা এখন আর শুধু একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সাভারের বড় শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা পুনর্গঠনের চেষ্টা।

এই সিদ্ধান্তগুলো তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এগুলোর বাস্তবায়নই মূল পরীক্ষা। কুইক রেসপন্স টিম, হটলাইন, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, আলো ও সিসিটিভি, এসব থাকলে সাভারের জাবিতে নিরাপত্তা বাড়তে পারে। তবে নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া আর দায়বদ্ধতা ছাড়া কাগজে-কলমে সিদ্ধান্তের কোনো মূল্য নেই।

সাভারের মতো বড় শিক্ষাকেন্দ্রে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো এলাকার ভাবমূর্তির সঙ্গেও যুক্ত। তাই আশুলিয়া থানায় মামলা, অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা এবং প্রশাসনিক কঠোরতা, সবকিছু মিলিয়ে এখন প্রয়োজন দ্রুত, স্বচ্ছ এবং দৃশ্যমান ফল।

সাভারের যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সাড়া ব্যবস্থা আর বিলম্বের বিষয় নয়। অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো, নিরাপদ চলাচল আর দায়িত্বশীল তদারকি, এগুলোই এখন অপরিহার্য।

এদিকে আজকে ১৭ মে রবিবার দুপুর ১১.২৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বাম সংঘটনের ছাত্র-ছাত্রীরা।

“জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় কুইক রেসপন্স টিম গঠনসহ ১৪ দফা সিদ্ধান্ত”

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাবিতে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

মো নজরুল ইসলাম: ঢাকার সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টা ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪ দফা নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য হটলাইন চালু, পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণশ্রমিক ও দোকানকর্মীদের তথ্যভিত্তিক ডেটাবেইজ তৈরি, ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ, গেট ও সীমানা প্রাচীর মেরামত, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত আলো, এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি বসানো। প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা প্রহরী বাড়ানো ও নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ১১.৩০ মে রাতে, যখন আবাসিক হলে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের ভেতরে এক নারী শিক্ষার্থী বহিরাগত এক ব্যক্তির হামলার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা ১৩ মে রাতে পাঁচ দফা দাবি তুলে আন্দোলনে নামেন, আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশুলিয়া থানায় মামলা করে।

সাভারের এই ক্যাম্পাসে এক রাতের ঘটনা পুরো নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের চাপ, প্রশাসনের বৈঠক আর ১৪ দফা সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে এটা এখন আর শুধু একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সাভারের বড় শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা পুনর্গঠনের চেষ্টা।

এই সিদ্ধান্তগুলো তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এগুলোর বাস্তবায়নই মূল পরীক্ষা। কুইক রেসপন্স টিম, হটলাইন, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, আলো ও সিসিটিভি, এসব থাকলে সাভারের জাবিতে নিরাপত্তা বাড়তে পারে। তবে নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া আর দায়বদ্ধতা ছাড়া কাগজে-কলমে সিদ্ধান্তের কোনো মূল্য নেই।

সাভারের মতো বড় শিক্ষাকেন্দ্রে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো এলাকার ভাবমূর্তির সঙ্গেও যুক্ত। তাই আশুলিয়া থানায় মামলা, অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা এবং প্রশাসনিক কঠোরতা, সবকিছু মিলিয়ে এখন প্রয়োজন দ্রুত, স্বচ্ছ এবং দৃশ্যমান ফল।

সাভারের যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সাড়া ব্যবস্থা আর বিলম্বের বিষয় নয়। অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো, নিরাপদ চলাচল আর দায়িত্বশীল তদারকি, এগুলোই এখন অপরিহার্য।

এদিকে আজকে ১৭ মে রবিবার দুপুর ১১.২৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বাম সংঘটনের ছাত্র-ছাত্রীরা।

“জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় কুইক রেসপন্স টিম গঠনসহ ১৪ দফা সিদ্ধান্ত”


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত