আব্দুল্লাহ আল মোমিন : পাবনার ফরিদপুর উপজেলার হাদল ডিগ্রি মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য এবং প্রতিষ্ঠানের ভবণ নির্মাণে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ দাবি করেছেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুছা অভিযোগ করে বলেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে পাঠানো হয়। তার দাবি, পরিচালনা কমিটির সঙ্গে মতবিরোধ এবং শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তিনি প্রতিহিংসার শিকার হন।
তিনি বলেন, ইতিপূর্বে যে ছয়টি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে যোগ্যতার চেয়ে আর্থিক লেনদেনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনেক শিক্ষকই ঠিকভাবে পাঠদান করতে পারেন না। একজন আইসিটি শিক্ষক আলিম শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার মতো যোগ্য ছিলেন না। সহকারী মওলানাসহ আরও কয়েকটি নিয়োগেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে আমি কিছু বলতে পারিনি। পরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা সমস্যায় পড়ি। তখন আমি বলি, টাকার বিনিময়ে নয়, যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষক দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহু বছর পিছিয়ে যায়।
অধ্যক্ষের অভিযোগে জানা যায়, তৎকালীন সময়ে পুতুল সভাপতি সাইদুর রহমান সাইদ (হাদল ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক) এবং সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সেলিমের প্রভাবে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালিত হতো। তিনি দাবি করেন, মোটা অঙ্কের টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে অযোগ্য লোক নিয়োগ দিতে চাওয়া হয়েছিল। আমি এর বিরোধিতা করায় আমার বিরুদ্ধে ককটেল ও বোমা তৈরির মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
তিনি জানান, একদিন আলিম শ্রেণির ক্লাস শেষে এক অপরিচিত ব্যক্তি এসে তার নাম জেনে চলে যান। পরে পুলিশের এসআই শরিফুল ইসলাম তাকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে অফিসার ইনচার্জ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সরকারের বিরোধিতা করার অভিযোগ তোলেন। পরে তাকে থানার লকআপে রেখে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, মাদ্রাসার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা জমা ছিল। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা একটি মাহফিল আয়োজনের জন্য ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল এবং বাকি অর্থ দিয়ে ভবনের ছাদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তাকে কারাগারে পাঠানোর পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু-বকর দায়িত্ব থাকায় নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বকর বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অধ্যক্ষ আবু মুছা সব পরিকল্পনা ও নকশার কাজ সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন। আমার সময়ে শুধু উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনের সময়ও আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমি তখন পির সাহেবের কাছে টাকা দিতে গিয়েছিলাম।
নির্মাণ কাজ ও অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে যান এবং নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত দাবি করেন।
হাদল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও হাদল ডিগ্রি মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, তিনি কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। এ বিষয়ে তাঁর সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্টদের কাছে খোঁজ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমি কোনোদিন কাউকে ডেকে নিয়ে টাকা নেওয়ার মতো কাজ করিনি। আমার কাছে শুধু স্বাক্ষর চাওয়া হয়েছিল, তাই আমি স্বাক্ষর করেছি। আমি একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। মাদ্রাসার কাজের জন্য যে রড ও সিমেন্ট কেনা হয়েছে, সেসব কেনাকাটার সঙ্গে আমি কখনো যাইনি। আমার নিজস্ব একটি দোকান রয়েছে। আমার দোকান থেকে যে মালামাল নেওয়া হয়েছে, তার তালিকাও আমার কাছে আছে। পরে দেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব। কিছু জিনিস হয়তো আমার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, আবার কিছু অন্য জায়গা থেকেও নেওয়া হতে পারে। তবে আমি কখনো তাদের সঙ্গে কোনো কেনাকাটায় অংশ নিইনি এবং এ বিষয়ে তেমন কিছু জানিও না।
তিনি আরও বলেন, এলাকার যারা কমিটিতে ছিলেন, চেয়ারম্যানসহ তাঁদের মাধ্যমেই হয়তো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিষয়টি হয়েছে, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আমি গিয়েছি এবং ফিরে এসেছি এ পর্যন্তই।আপনারা হয়তো জানেন আমি একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় কয়েকজন দোকানি ও সাবেক কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, একটি মাদ্রাসায় চাকরি করে পাবনা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জায়গা কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং পরিবার নিয়ে বসবাস করা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভবনের কিছু অংশ ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। এতো অর্থের উৎস কোথায়, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
আব্দুল্লাহ আল মোমিন : পাবনার ফরিদপুর উপজেলার হাদল ডিগ্রি মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য এবং প্রতিষ্ঠানের ভবণ নির্মাণে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ দাবি করেছেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুছা অভিযোগ করে বলেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে পাঠানো হয়। তার দাবি, পরিচালনা কমিটির সঙ্গে মতবিরোধ এবং শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তিনি প্রতিহিংসার শিকার হন।
তিনি বলেন, ইতিপূর্বে যে ছয়টি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে যোগ্যতার চেয়ে আর্থিক লেনদেনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনেক শিক্ষকই ঠিকভাবে পাঠদান করতে পারেন না। একজন আইসিটি শিক্ষক আলিম শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার মতো যোগ্য ছিলেন না। সহকারী মওলানাসহ আরও কয়েকটি নিয়োগেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে আমি কিছু বলতে পারিনি। পরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা সমস্যায় পড়ি। তখন আমি বলি, টাকার বিনিময়ে নয়, যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষক দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহু বছর পিছিয়ে যায়।
অধ্যক্ষের অভিযোগে জানা যায়, তৎকালীন সময়ে পুতুল সভাপতি সাইদুর রহমান সাইদ (হাদল ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক) এবং সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সেলিমের প্রভাবে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালিত হতো। তিনি দাবি করেন, মোটা অঙ্কের টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে অযোগ্য লোক নিয়োগ দিতে চাওয়া হয়েছিল। আমি এর বিরোধিতা করায় আমার বিরুদ্ধে ককটেল ও বোমা তৈরির মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
তিনি জানান, একদিন আলিম শ্রেণির ক্লাস শেষে এক অপরিচিত ব্যক্তি এসে তার নাম জেনে চলে যান। পরে পুলিশের এসআই শরিফুল ইসলাম তাকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে অফিসার ইনচার্জ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সরকারের বিরোধিতা করার অভিযোগ তোলেন। পরে তাকে থানার লকআপে রেখে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, মাদ্রাসার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা জমা ছিল। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা একটি মাহফিল আয়োজনের জন্য ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল এবং বাকি অর্থ দিয়ে ভবনের ছাদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তাকে কারাগারে পাঠানোর পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু-বকর দায়িত্ব থাকায় নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বকর বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অধ্যক্ষ আবু মুছা সব পরিকল্পনা ও নকশার কাজ সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন। আমার সময়ে শুধু উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনের সময়ও আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমি তখন পির সাহেবের কাছে টাকা দিতে গিয়েছিলাম।
নির্মাণ কাজ ও অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে যান এবং নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত দাবি করেন।
হাদল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও হাদল ডিগ্রি মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, তিনি কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। এ বিষয়ে তাঁর সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্টদের কাছে খোঁজ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমি কোনোদিন কাউকে ডেকে নিয়ে টাকা নেওয়ার মতো কাজ করিনি। আমার কাছে শুধু স্বাক্ষর চাওয়া হয়েছিল, তাই আমি স্বাক্ষর করেছি। আমি একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। মাদ্রাসার কাজের জন্য যে রড ও সিমেন্ট কেনা হয়েছে, সেসব কেনাকাটার সঙ্গে আমি কখনো যাইনি। আমার নিজস্ব একটি দোকান রয়েছে। আমার দোকান থেকে যে মালামাল নেওয়া হয়েছে, তার তালিকাও আমার কাছে আছে। পরে দেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব। কিছু জিনিস হয়তো আমার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, আবার কিছু অন্য জায়গা থেকেও নেওয়া হতে পারে। তবে আমি কখনো তাদের সঙ্গে কোনো কেনাকাটায় অংশ নিইনি এবং এ বিষয়ে তেমন কিছু জানিও না।
তিনি আরও বলেন, এলাকার যারা কমিটিতে ছিলেন, চেয়ারম্যানসহ তাঁদের মাধ্যমেই হয়তো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিষয়টি হয়েছে, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আমি গিয়েছি এবং ফিরে এসেছি এ পর্যন্তই।আপনারা হয়তো জানেন আমি একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় কয়েকজন দোকানি ও সাবেক কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, একটি মাদ্রাসায় চাকরি করে পাবনা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জায়গা কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং পরিবার নিয়ে বসবাস করা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভবনের কিছু অংশ ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। এতো অর্থের উৎস কোথায়, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন