ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

রায়গঞ্জের ধানহাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পথে বসছেন কৃষকরা



রায়গঞ্জের ধানহাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পথে বসছেন কৃষকরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা-এর বিভিন্ন ধানের হাটে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ওজনে ধান ক্রয় এবং খাজনার নামে বাড়তি টাকা ও ধান আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, আড়ৎদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার প্রাচীন ও বৃহৎ ধানের হাটগুলোর মধ্যে সলঙ্গা, চান্দাইকোনা ও নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি হাটে নিয়মিত ধান কেনাবেচা হয়। পাশাপাশি এক শ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ী নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেন।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মণ ধানের ওজন ৪০ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি মণে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ওজনের কম হলে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা ধান কিনতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের বাড়তি ধান দিতে হচ্ছে।

এ ছাড়া ইজারাদাররা খাজনার নামে নগদ টাকা আদায়ের পাশাপাশি প্রতি মণে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম বাড়েনি। উল্টো ধান বিক্রি করতে গেলেই ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়তে হয়।”

তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “ঘুড়কা হাটে প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ ছেড়ে দিতে হবে।”

আরেক কৃষক আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, “হাটে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না। কৃষকদের জিম্মি করে ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। আমরা ধান চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছি না।”

নিমগাছী হাটের এক বিক্রেতা জানান, “প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি বেশি ধান দিতে হয়। অনেক ফড়িয়া ওজনের কারচুপি করে প্রতি বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত ধান কম দেখায়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু আড়ৎদার ধান কিনে সময়মতো টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করেন।

তবে নিমগাছী বাজারের এক আড়ৎদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বছরের পর বছর ধরেই এভাবে ধান কেনাবেচা হয়ে আসছে। পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার অতিরিক্ত খরচের কারণেই কিছুটা বেশি ওজন নেওয়া হয়।”

এ বিষয়ে মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, ধানের হাটে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ওজন ও খাজনার নামে হয়রানি বন্ধ এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রায়গঞ্জের ধানহাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পথে বসছেন কৃষকরা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা-এর বিভিন্ন ধানের হাটে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ওজনে ধান ক্রয় এবং খাজনার নামে বাড়তি টাকা ও ধান আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, আড়ৎদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার প্রাচীন ও বৃহৎ ধানের হাটগুলোর মধ্যে সলঙ্গা, চান্দাইকোনা ও নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি হাটে নিয়মিত ধান কেনাবেচা হয়। পাশাপাশি এক শ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ী নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেন।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মণ ধানের ওজন ৪০ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি মণে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ওজনের কম হলে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা ধান কিনতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের বাড়তি ধান দিতে হচ্ছে।

এ ছাড়া ইজারাদাররা খাজনার নামে নগদ টাকা আদায়ের পাশাপাশি প্রতি মণে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম বাড়েনি। উল্টো ধান বিক্রি করতে গেলেই ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়তে হয়।”

তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “ঘুড়কা হাটে প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ ছেড়ে দিতে হবে।”

আরেক কৃষক আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, “হাটে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না। কৃষকদের জিম্মি করে ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। আমরা ধান চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছি না।”

নিমগাছী হাটের এক বিক্রেতা জানান, “প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি বেশি ধান দিতে হয়। অনেক ফড়িয়া ওজনের কারচুপি করে প্রতি বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত ধান কম দেখায়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু আড়ৎদার ধান কিনে সময়মতো টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করেন।

তবে নিমগাছী বাজারের এক আড়ৎদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বছরের পর বছর ধরেই এভাবে ধান কেনাবেচা হয়ে আসছে। পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার অতিরিক্ত খরচের কারণেই কিছুটা বেশি ওজন নেওয়া হয়।”

এ বিষয়ে মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, ধানের হাটে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ওজন ও খাজনার নামে হয়রানি বন্ধ এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত