ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

প্রভাবশালীদের দখলে ৬০ বিঘা ফসলি জমি, বিপাকে কৃষক, ব্যাহত উৎপাদন



প্রভাবশালীদের দখলে ৬০ বিঘা ফসলি জমি, বিপাকে কৃষক, ব্যাহত উৎপাদন

পাবনা থেকে আব্দুল্লাহ আল মোমিন : পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চকচিরোট এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক। প্রায় ৬০ বিঘা ফসলি জমি দখল করে অবৈধ ভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় থমকে গেছে ধান চাষ। এতে একদিকে কৃষকরা তাদের জীবিকা হারাচ্ছেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রের খাদ্য উৎপাদনও মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকচিরোট এলাকার প্রভাবশালী আবু তালেবের ছেলে নাজমুল হক হীরক ও ওয়াসিম  দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার কৃষকদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। সম্প্রতি তারা সাধারণ কৃষকদের মালিকানাধীন জমিসহ প্রায় ৬০ বিঘা ফসলি জমির উপর একটি বিশাল বাঁধ নির্মাণ করেছেন। এই বাঁধের কারণে জমিতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং কৃষকরা তাদের জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। ​ভুক্তভোগী কৃষক শাহিনুর রহমান।

অভিযোগ করে বলেন তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ৮ বিঘা ধানী জমিই তাদের আয়ের একমাত্র আয়ের  উৎস। কিন্তু প্রভাবশালী চক্রটি পেশিশক্তির জোরে তাদের জমিতে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। আরেক  কৃষক ইউনুস  আলী বলেন আমাদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। নিজের জমি থাকা সত্ত্বেও আমরা চাষ করতে পারছি না। এ ছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা জানান নাজমুল হক হীরক ও ওয়াসিমের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। তারা রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

প্রায় ৬০ বিঘা জমি বর্তমানে অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। অথচ ​ চলতি মৌসুমে এই বিশাল পরিমাণ জমি থেকে  ১৫ শ থেকে ২ হাজার মন ধান পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যা এখন অনিশ্চিত। এই জমির উৎপাদিত ধানে  একটা অঞ্চল খাদ্যের যোগান দিত ।  

চাষাবাদ বন্ধ থাকায় স্থানীয় কয়েক ডজন কৃষক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

​গ্রামবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রভাবশালীরা কোনো তোয়াক্কা করছে না। বরং প্রতিবাদ করলে সাধারণ কৃষকদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় অবৈধ বাঁধটি অপসারণ করে ফসলি জমি উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়   প্রায় শত বিঘা আবাদি ধানি জমি  উৎপাদন ব্যাহত করে  বাধ নির্মাণ করেছে  ওই এলাকার আবু তালেনের ছেলে  নাজমুল হক হিরোক ও ওয়াসিম । আর তাদের আর্থিক যোগান দিচ্ছে  তারই বড় ভাই  আমেরিকান প্রবাসী তাজহারুল ইসলাম  জসিম ।  এ ব্যাপারে নাজমুল হক হীরক  ও ওয়াসীমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে  তারা বলেন  আমাদের জমির উপরেই আমরা বাঁধ নির্মাণ করেছি । বাদ এরিয়ার মধ্যে  কয়েকজনের প্রায় ১৫  বিঘা জমে রয়েছে  আমরা তাদের সাথে কথা বলে জমির ন্যায্য  মূল্য দিয়ে কিনে নেব । 

​এ বিষয়ে পাবনা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার  ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ কৃষকরা পথে বসার পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রভাবশালীদের দখলে ৬০ বিঘা ফসলি জমি, বিপাকে কৃষক, ব্যাহত উৎপাদন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

পাবনা থেকে আব্দুল্লাহ আল মোমিন : পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চকচিরোট এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক। প্রায় ৬০ বিঘা ফসলি জমি দখল করে অবৈধ ভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় থমকে গেছে ধান চাষ। এতে একদিকে কৃষকরা তাদের জীবিকা হারাচ্ছেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রের খাদ্য উৎপাদনও মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকচিরোট এলাকার প্রভাবশালী আবু তালেবের ছেলে নাজমুল হক হীরক ও ওয়াসিম  দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার কৃষকদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। সম্প্রতি তারা সাধারণ কৃষকদের মালিকানাধীন জমিসহ প্রায় ৬০ বিঘা ফসলি জমির উপর একটি বিশাল বাঁধ নির্মাণ করেছেন। এই বাঁধের কারণে জমিতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং কৃষকরা তাদের জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। ​ভুক্তভোগী কৃষক শাহিনুর রহমান।

অভিযোগ করে বলেন তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ৮ বিঘা ধানী জমিই তাদের আয়ের একমাত্র আয়ের  উৎস। কিন্তু প্রভাবশালী চক্রটি পেশিশক্তির জোরে তাদের জমিতে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। আরেক  কৃষক ইউনুস  আলী বলেন আমাদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। নিজের জমি থাকা সত্ত্বেও আমরা চাষ করতে পারছি না। এ ছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা জানান নাজমুল হক হীরক ও ওয়াসিমের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। তারা রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

প্রায় ৬০ বিঘা জমি বর্তমানে অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। অথচ ​ চলতি মৌসুমে এই বিশাল পরিমাণ জমি থেকে  ১৫ শ থেকে ২ হাজার মন ধান পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যা এখন অনিশ্চিত। এই জমির উৎপাদিত ধানে  একটা অঞ্চল খাদ্যের যোগান দিত ।  

চাষাবাদ বন্ধ থাকায় স্থানীয় কয়েক ডজন কৃষক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

​গ্রামবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রভাবশালীরা কোনো তোয়াক্কা করছে না। বরং প্রতিবাদ করলে সাধারণ কৃষকদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় অবৈধ বাঁধটি অপসারণ করে ফসলি জমি উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়   প্রায় শত বিঘা আবাদি ধানি জমি  উৎপাদন ব্যাহত করে  বাধ নির্মাণ করেছে  ওই এলাকার আবু তালেনের ছেলে  নাজমুল হক হিরোক ও ওয়াসিম । আর তাদের আর্থিক যোগান দিচ্ছে  তারই বড় ভাই  আমেরিকান প্রবাসী তাজহারুল ইসলাম  জসিম ।  এ ব্যাপারে নাজমুল হক হীরক  ও ওয়াসীমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে  তারা বলেন  আমাদের জমির উপরেই আমরা বাঁধ নির্মাণ করেছি । বাদ এরিয়ার মধ্যে  কয়েকজনের প্রায় ১৫  বিঘা জমে রয়েছে  আমরা তাদের সাথে কথা বলে জমির ন্যায্য  মূল্য দিয়ে কিনে নেব । 

​এ বিষয়ে পাবনা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার  ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ কৃষকরা পথে বসার পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত