ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

বিএনপির ছত্রছায়ায় সিরাজগঞ্জে বালু সাত্তারের পুনরুত্থান



বিএনপির ছত্রছায়ায় সিরাজগঞ্জে বালু সাত্তারের পুনরুত্থান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আব্দুস সাত্তার, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বালু সাত্তার’ নামে পরিচিত, তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের নেতাদের নীরব সমর্থন বা ‘ব্যাকআপে’ তিনি আবারও প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং শহরজুড়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে গেলেও আব্দুস সাত্তার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকাশ্যে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির একটি অংশকে ব্যবসায়িক সুবিধা দিয়ে তিনি পুনরায় সক্রিয়তা শুরু করেন।

বর্তমানে সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ নানা উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে তাকে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে তার নামে ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি তিনি সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক পদেও নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে, শহরজুড়ে গুঞ্জন রয়েছে—আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আব্দুস সাত্তার। এতে বিএনপির ভেতরেই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। দলের একাংশ এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক সজিব সরকার বলেন, “সাত্তার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সে নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু বিএনপির কিছু লোকজন তাকে বৈধতা দিচ্ছে—এটা দুঃখজনক।”

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন ইসলাম খান বলেন, “দলের ত্যাগী নেতারা প্রার্থী হলে আমরা স্বাগত জানাবো। কিন্তু যাদের দ্বারা বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে, তাদের কেউ গ্রহণযোগ্য নয়।”

একই সুর শোনা গেছে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলীর কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “নির্বাচন করার অধিকার সবার আছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কাউকে সমর্থন দিলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।”

আব্দুস সাত্তারের অতীত নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। ২০১২ সালে যমুনা নদীর বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক নেতা নাসির উদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় তার নাম প্রধান আসামি হিসেবে উঠে আসে। একই ঘটনায় আহত হয়ে পরে মারা যান নাসিরের শ্যালক শাকিল আহম্মেদ টিক্কা। তবে পরবর্তীতে মামলাটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় বলে জানা যায়।

অন্যদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তার বলেন, “এই শহর সবার। পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ—এই বিশ্বাস থেকে আমরা কাজ করছি। ভালো কাজ করা ইবাদত, তাই যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।”

সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন বিতর্কিত নেতার এমন প্রকাশ্য সক্রিয়তা এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রস্তুতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে বিএনপির ভেতরের বিভক্ত অবস্থান ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিএনপির ছত্রছায়ায় সিরাজগঞ্জে বালু সাত্তারের পুনরুত্থান

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আব্দুস সাত্তার, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বালু সাত্তার’ নামে পরিচিত, তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের নেতাদের নীরব সমর্থন বা ‘ব্যাকআপে’ তিনি আবারও প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং শহরজুড়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে গেলেও আব্দুস সাত্তার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকাশ্যে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির একটি অংশকে ব্যবসায়িক সুবিধা দিয়ে তিনি পুনরায় সক্রিয়তা শুরু করেন।

বর্তমানে সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ নানা উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে তাকে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে তার নামে ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি তিনি সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক পদেও নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে, শহরজুড়ে গুঞ্জন রয়েছে—আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আব্দুস সাত্তার। এতে বিএনপির ভেতরেই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। দলের একাংশ এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক সজিব সরকার বলেন, “সাত্তার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সে নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু বিএনপির কিছু লোকজন তাকে বৈধতা দিচ্ছে—এটা দুঃখজনক।”

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন ইসলাম খান বলেন, “দলের ত্যাগী নেতারা প্রার্থী হলে আমরা স্বাগত জানাবো। কিন্তু যাদের দ্বারা বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে, তাদের কেউ গ্রহণযোগ্য নয়।”

একই সুর শোনা গেছে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলীর কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “নির্বাচন করার অধিকার সবার আছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কাউকে সমর্থন দিলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।”

আব্দুস সাত্তারের অতীত নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। ২০১২ সালে যমুনা নদীর বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক নেতা নাসির উদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় তার নাম প্রধান আসামি হিসেবে উঠে আসে। একই ঘটনায় আহত হয়ে পরে মারা যান নাসিরের শ্যালক শাকিল আহম্মেদ টিক্কা। তবে পরবর্তীতে মামলাটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় বলে জানা যায়।

অন্যদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তার বলেন, “এই শহর সবার। পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ—এই বিশ্বাস থেকে আমরা কাজ করছি। ভালো কাজ করা ইবাদত, তাই যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।”

সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন বিতর্কিত নেতার এমন প্রকাশ্য সক্রিয়তা এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রস্তুতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে বিএনপির ভেতরের বিভক্ত অবস্থান ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত