ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

আড়াইহাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তেজনা, গণপিটুনিতে আহত ২



আড়াইহাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তেজনা, গণপিটুনিতে আহত ২
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাঘবদী এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে আসানুল্লাহ ও সেলিম নামে দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাঘবদী এলাকায় সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে বসানো কয়েকটি দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। শনিবার সকালে ওই দুই ব্যক্তি দোকানদারদের কাছে চাঁদা দাবি করলে কয়েকজন ব্যবসায়ী তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা উত্তেজনায় রূপ নিলে বিষয়টি দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে জনতা অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা আহত হন। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিশোধের ভয়ে অনেকে এতদিন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অভিযোগের প্রতিকার না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এ ঘটনায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার জানান, অস্থায়ী দোকান বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হতো। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগ তাদের। তারা বলেন, “ছোট ব্যবসা করে সংসার চালাই। এর মধ্যেও চাঁদা দিতে হবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

ঘটনার পর রাঘবদী এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। স্থানীয়রা সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে গণপিটুনির মতো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির শিকার। বারবার অভিযোগ দিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাইনি। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করা হোক।”

এদিকে ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয়দের যেকোনো ধরনের গুজব বা উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অপরাধ, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য নিকটস্থ থানা কিংবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আড়াইহাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তেজনা, গণপিটুনিতে আহত ২

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাঘবদী এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে আসানুল্লাহ ও সেলিম নামে দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাঘবদী এলাকায় সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে বসানো কয়েকটি দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। শনিবার সকালে ওই দুই ব্যক্তি দোকানদারদের কাছে চাঁদা দাবি করলে কয়েকজন ব্যবসায়ী তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা উত্তেজনায় রূপ নিলে বিষয়টি দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে জনতা অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা আহত হন। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিশোধের ভয়ে অনেকে এতদিন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অভিযোগের প্রতিকার না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এ ঘটনায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার জানান, অস্থায়ী দোকান বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হতো। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগ তাদের। তারা বলেন, “ছোট ব্যবসা করে সংসার চালাই। এর মধ্যেও চাঁদা দিতে হবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

ঘটনার পর রাঘবদী এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। স্থানীয়রা সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে গণপিটুনির মতো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির শিকার। বারবার অভিযোগ দিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাইনি। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করা হোক।”

এদিকে ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয়দের যেকোনো ধরনের গুজব বা উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অপরাধ, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য নিকটস্থ থানা কিংবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত