রকিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : অব্যাহত লোডশেডিং ও জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। জেলার বেলকুচি, এনায়েতপুরসহ সকল তাঁতপল্লীগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। একসময় কর্মচঞ্চল এসব এলাকায় এখন বিরাজ করছে নীরবতা ও অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে বেলকুচির মুকুন্দগাঁতী, শেরনগর, তামাই ও এনায়েতপুরের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁতকলগুলো বন্ধ পড়ে আছে। বিদ্যুতের অভাবে পাওয়ারলুম চালানো সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক কারখানায় শ্রমিকদের অলস বসে থাকতে দেখা গেছে; কেউ লুডু খেলছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে সময় কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় তাঁতিরা জানান, আগে একটি জামদানি শাড়ি উৎপাদনে বিদ্যুৎ খরচ হতো প্রায় ৪০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে একই শাড়ি উৎপাদনে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬০ টাকা। এতে উৎপাদন ব্যয় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ছোট ও প্রান্তিক তাঁতিদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাঁত শ্রমিক রহমত আলী বলেন, “বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, আবার বাজারে ডিজেলও সহজে পাওয়া যায় না। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” তিনি জানান, অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন বা কাজের সন্ধানে এলাকা ছাড়ছেন।
জাতীয় তাঁতি সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জে প্রায় পাঁচ লাখ তাঁত রয়েছে, যার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর মধ্যে মাত্র দুই লাখ তাঁত (জেনারেটর ও হস্তচালিত) কোনোভাবে চালু রয়েছে, বাকিগুলো বন্ধ হওয়ার পথে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, সুতা ও রঙের উচ্চমূল্য এবং অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ—সব মিলিয়ে তাঁতশিল্প এখন বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। প্রান্তিক তাঁতিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ তাদের সীমিত মূলধন দিয়ে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং জ্বালানি সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী এই তাঁতশিল্প ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
রকিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : অব্যাহত লোডশেডিং ও জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। জেলার বেলকুচি, এনায়েতপুরসহ সকল তাঁতপল্লীগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। একসময় কর্মচঞ্চল এসব এলাকায় এখন বিরাজ করছে নীরবতা ও অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে বেলকুচির মুকুন্দগাঁতী, শেরনগর, তামাই ও এনায়েতপুরের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁতকলগুলো বন্ধ পড়ে আছে। বিদ্যুতের অভাবে পাওয়ারলুম চালানো সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক কারখানায় শ্রমিকদের অলস বসে থাকতে দেখা গেছে; কেউ লুডু খেলছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে সময় কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় তাঁতিরা জানান, আগে একটি জামদানি শাড়ি উৎপাদনে বিদ্যুৎ খরচ হতো প্রায় ৪০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে একই শাড়ি উৎপাদনে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬০ টাকা। এতে উৎপাদন ব্যয় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ছোট ও প্রান্তিক তাঁতিদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাঁত শ্রমিক রহমত আলী বলেন, “বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, আবার বাজারে ডিজেলও সহজে পাওয়া যায় না। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” তিনি জানান, অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন বা কাজের সন্ধানে এলাকা ছাড়ছেন।
জাতীয় তাঁতি সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জে প্রায় পাঁচ লাখ তাঁত রয়েছে, যার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর মধ্যে মাত্র দুই লাখ তাঁত (জেনারেটর ও হস্তচালিত) কোনোভাবে চালু রয়েছে, বাকিগুলো বন্ধ হওয়ার পথে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, সুতা ও রঙের উচ্চমূল্য এবং অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ—সব মিলিয়ে তাঁতশিল্প এখন বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। প্রান্তিক তাঁতিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ তাদের সীমিত মূলধন দিয়ে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং জ্বালানি সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী এই তাঁতশিল্প ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন