নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় একই রাতে দুইটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথক দুই ঘটনায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুইজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল।
সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়ন এর সত্যভান্দী এবং ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন এর বড়মনোহরদী এলাকায় এ দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আড়াইটার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল বড়মনোহরদী গ্রামের ব্যবসায়ী আনারুল হকের বাড়িতে হামলা চালায়। ডাকাতরা প্রথমে বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে।
এ সময় ডাকাতরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। ডাকাতদের হাতে অস্ত্র থাকায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে কোনো বাধা দিতে পারেননি। ডাকাত দল চলে যাওয়ার সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার দিলে গৃহকর্তার ছেলে আনিছুর ও আইয়ুবুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আহতরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে একই রাত দেড়টার দিকে দুপ্তারা ইউনিয়নের সত্যভান্দী ডাক্তারবাড়ি এলাকায় আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দল বাদল মোল্লার চারতলা ভবনে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় তারা গৃহকর্তা বাদল মোল্লা ও তার ভাড়াটিয়া শরিফুলের বাসা থেকে প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, ডাকাত দল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দুইটি বাড়িতে পৃথক সময়ে হামলা চালায়। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ডাকাতরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এক রাতেই দুইটি ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে গভীর রাতে টহল পুলিশের উপস্থিতি কম থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে এলাকায় অপরিচিত লোকজনের চলাফেরা লক্ষ্য করা গেলেও নিরাপত্তা জোরদারের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সহজেই বাড়িতে প্রবেশ করে এসব ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে ধারাবাহিকভাবে চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় আড়াইহাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত পুলিশি টহল বাড়ানো, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানা র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় একই রাতে দুইটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথক দুই ঘটনায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুইজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল।
সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়ন এর সত্যভান্দী এবং ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন এর বড়মনোহরদী এলাকায় এ দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আড়াইটার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল বড়মনোহরদী গ্রামের ব্যবসায়ী আনারুল হকের বাড়িতে হামলা চালায়। ডাকাতরা প্রথমে বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে।
এ সময় ডাকাতরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। ডাকাতদের হাতে অস্ত্র থাকায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে কোনো বাধা দিতে পারেননি। ডাকাত দল চলে যাওয়ার সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার দিলে গৃহকর্তার ছেলে আনিছুর ও আইয়ুবুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আহতরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে একই রাত দেড়টার দিকে দুপ্তারা ইউনিয়নের সত্যভান্দী ডাক্তারবাড়ি এলাকায় আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দল বাদল মোল্লার চারতলা ভবনে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় তারা গৃহকর্তা বাদল মোল্লা ও তার ভাড়াটিয়া শরিফুলের বাসা থেকে প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, ডাকাত দল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দুইটি বাড়িতে পৃথক সময়ে হামলা চালায়। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ডাকাতরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এক রাতেই দুইটি ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে গভীর রাতে টহল পুলিশের উপস্থিতি কম থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে এলাকায় অপরিচিত লোকজনের চলাফেরা লক্ষ্য করা গেলেও নিরাপত্তা জোরদারের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সহজেই বাড়িতে প্রবেশ করে এসব ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে ধারাবাহিকভাবে চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় আড়াইহাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত পুলিশি টহল বাড়ানো, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানা র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন