ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

খুমেকের হাম কর্নারে বেড সংকটে ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা



খুমেকের হাম কর্নারে বেড সংকটে ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা
ছবি: পিয়া রহমান

প্রিয়া রহমান : খুলনায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) শিশু রোগীদের জন্য আলাদা করে হাম কর্নার চালু করা হয়েছে।

তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেখানে চরম বেড সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় শিশু রোগীদের অনেককে ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

খুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম কর্নারে মোট ১৪টি বেড থাকলেও এর মধ্যে একটি বেড ভাঙা থাকায় তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে কার্যকর ১৩টি বেডে বর্তমানে ২১ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে একটি বেডে দুইজন রোগী রাখার পাশাপাশি অনেককে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। নতুন রোগী এলে তাদেরও ফ্লোরে থাকতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কুষ্টিয়া জেলায়। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

খুমেক হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, গত কয়েকদিনে হাম কর্নারে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ১ এপ্রিল ভর্তি ছিল ১১ জন, ২ এপ্রিল ১৫ জন, ৩ এপ্রিল ১৯ জন, ৪ এপ্রিল ১৪ জন, ৫ এপ্রিল ১৫ জন এবং ৬ এপ্রিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান স্যায়েদা রুখশানা পারভীন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন জানান, বর্তমানে খুলনা জেলা আপাতত ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল জানিয়েছে, রোগীর চাপ মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খুলনা সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি বিশেষায়িত হাসপাতাল নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল বলেন, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে যাতে প্রয়োজন হলে সেখানে চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করা যায়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুমেকের হাম কর্নারে বেড সংকটে ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

প্রিয়া রহমান : খুলনায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) শিশু রোগীদের জন্য আলাদা করে হাম কর্নার চালু করা হয়েছে।

তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেখানে চরম বেড সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় শিশু রোগীদের অনেককে ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

খুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম কর্নারে মোট ১৪টি বেড থাকলেও এর মধ্যে একটি বেড ভাঙা থাকায় তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে কার্যকর ১৩টি বেডে বর্তমানে ২১ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে একটি বেডে দুইজন রোগী রাখার পাশাপাশি অনেককে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। নতুন রোগী এলে তাদেরও ফ্লোরে থাকতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কুষ্টিয়া জেলায়। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

খুমেক হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, গত কয়েকদিনে হাম কর্নারে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ১ এপ্রিল ভর্তি ছিল ১১ জন, ২ এপ্রিল ১৫ জন, ৩ এপ্রিল ১৯ জন, ৪ এপ্রিল ১৪ জন, ৫ এপ্রিল ১৫ জন এবং ৬ এপ্রিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান স্যায়েদা রুখশানা পারভীন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন জানান, বর্তমানে খুলনা জেলা আপাতত ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল জানিয়েছে, রোগীর চাপ মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খুলনা সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি বিশেষায়িত হাসপাতাল নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল বলেন, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে যাতে প্রয়োজন হলে সেখানে চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করা যায়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত