ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

দ্রুত সময়ের মধ্যে অপহৃত শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ১



দ্রুত সময়ের মধ্যে অপহৃত শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ১
শিশু অপহরণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১জন আসামি গ্রেফতার।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন এলাকা থেকে অপহৃত ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে স্বল্প সময়ের মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত একজন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকাল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে বন্দর থানার চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ভূইয়া (৪৭)-এর ছেলে, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হোসেন (০৯) খেলাধুলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা একটি নম্বর থেকে মোশারফ হোসেনের পরিচিত মোঃ হৃদয়ের মোবাইলে কল করে জানানো হয়, শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে প্রথমে ১০ লাখ টাকা এবং পরে ৭ লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত অর্থ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।

অপহৃত শিশুকে উদ্ধারপূর্বক পুলিশের প্রেস ব্রিফিং


ঘটনাটি জানার পর ভিকটিমের পিতা বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলী আশরাফ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মোঃ ইমরান আহম্মেদের নেতৃত্বে দুটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে গত রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে পটুয়াখালী সদর থানার ইসলামপুর গ্রাম থেকে আলী হোসেন (১৯) নামের এক অপহরণকারীকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের মাধ্যমে উত্তোলিত নগদ টাকা জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আলী হোসেন কয়েকদিন ধরে ভিকটিমের বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঈদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করে ঢাকার কদমতলী থানাধীন শ্যামপুরের কমিশনারের গলি এলাকায় তার ভাড়াকৃত বাসায় আটকে রাখে।

অপহরণকারী তার পূর্বপরিচিত হৃদয় (২৪), পিতা জয়নাল আবদিন, মাতা রাশিদা বেগম, সাং- ললাটি পূর্বপাড়া, থানা- সোনারগাঁও, জেলা- নারায়ণগঞ্জ-এর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ইমু অ্যাপের মাধ্যমে শিশুটির ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় ভিকটিমের পরিবার বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে ৫ হাজার এবং পরে ১০ হাজার টাকা প্রদান করে।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বন্দর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আজ ভোর আনুমানিক ৫টায় ঢাকার শ্যামপুর এলাকার ওই বাসা থেকে বাড়িওয়ালা চঞ্চল মাহমুদের সহায়তায় অপহৃত শিশু মোহাম্মদ হোসেনকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ভূইয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দ্রুত সময়ের মধ্যে অপহৃত শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ১

প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন এলাকা থেকে অপহৃত ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে স্বল্প সময়ের মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত একজন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকাল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে বন্দর থানার চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ভূইয়া (৪৭)-এর ছেলে, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হোসেন (০৯) খেলাধুলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা একটি নম্বর থেকে মোশারফ হোসেনের পরিচিত মোঃ হৃদয়ের মোবাইলে কল করে জানানো হয়, শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে প্রথমে ১০ লাখ টাকা এবং পরে ৭ লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত অর্থ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।

অপহৃত শিশুকে উদ্ধারপূর্বক পুলিশের প্রেস ব্রিফিং


ঘটনাটি জানার পর ভিকটিমের পিতা বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলী আশরাফ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মোঃ ইমরান আহম্মেদের নেতৃত্বে দুটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে গত রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে পটুয়াখালী সদর থানার ইসলামপুর গ্রাম থেকে আলী হোসেন (১৯) নামের এক অপহরণকারীকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের মাধ্যমে উত্তোলিত নগদ টাকা জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আলী হোসেন কয়েকদিন ধরে ভিকটিমের বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঈদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করে ঢাকার কদমতলী থানাধীন শ্যামপুরের কমিশনারের গলি এলাকায় তার ভাড়াকৃত বাসায় আটকে রাখে।

অপহরণকারী তার পূর্বপরিচিত হৃদয় (২৪), পিতা জয়নাল আবদিন, মাতা রাশিদা বেগম, সাং- ললাটি পূর্বপাড়া, থানা- সোনারগাঁও, জেলা- নারায়ণগঞ্জ-এর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ইমু অ্যাপের মাধ্যমে শিশুটির ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় ভিকটিমের পরিবার বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে ৫ হাজার এবং পরে ১০ হাজার টাকা প্রদান করে।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বন্দর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আজ ভোর আনুমানিক ৫টায় ঢাকার শ্যামপুর এলাকার ওই বাসা থেকে বাড়িওয়ালা চঞ্চল মাহমুদের সহায়তায় অপহৃত শিশু মোহাম্মদ হোসেনকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ভূইয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত