ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সংসদ সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান খন্দকার মোশাররফের



গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সংসদ সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান খন্দকার মোশাররফের
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

 দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা বজায় রাখতে সংসদ সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। 

তিনি আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সংসদে সভাপতি হিসেবে স্পিকারের চেয়ারে আসন গ্রহণ করে তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানান।   

উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত ও অভিনন্দন জানান। 

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদ সদস্যরা সংসদে এসেছেন এবং দেশের সেবা করার বড় দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সব সদস্যের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের নবযাত্রাকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করবে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।

সাবেক এই মন্ত্রী তাঁকে ত্রয়োদশ সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সুযোগ দেওয়ায় সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বক্তৃতার শুরুতে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ, ভাষা আন্দোলনের শহীদ এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদেরও স্মরণ করেন এবং বলেন, তাদের ত্যাগ জাতিকে মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে অবিরাম অঙ্গীকারের প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অনেক বছর পর নাগরিকরা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।

তিনি সরকার গঠন করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রথমবারের মতো সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা গ্রহণ করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকেও তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক ও বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও স্মরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও কারাবরণ সত্ত্বেও গণতন্ত্রের জন্য তাঁর সংগ্রাম ও দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

মোশাররফ বলেন, নতুন সংসদের উচিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শক্তিশালী করা এবং মুক্তিযুদ্ধের নিরপেক্ষ ইতিহাস সংরক্ষণ করে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করা।

আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দেশের অগ্রযাত্রায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা আজ শুরু হলো। আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সংসদ সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান খন্দকার মোশাররফের

প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

featured Image

 দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা বজায় রাখতে সংসদ সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। 

তিনি আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সংসদে সভাপতি হিসেবে স্পিকারের চেয়ারে আসন গ্রহণ করে তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানান।   

উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত ও অভিনন্দন জানান। 

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদ সদস্যরা সংসদে এসেছেন এবং দেশের সেবা করার বড় দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সব সদস্যের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের নবযাত্রাকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করবে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।

সাবেক এই মন্ত্রী তাঁকে ত্রয়োদশ সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সুযোগ দেওয়ায় সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বক্তৃতার শুরুতে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ, ভাষা আন্দোলনের শহীদ এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদেরও স্মরণ করেন এবং বলেন, তাদের ত্যাগ জাতিকে মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে অবিরাম অঙ্গীকারের প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অনেক বছর পর নাগরিকরা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।

তিনি সরকার গঠন করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রথমবারের মতো সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা গ্রহণ করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকেও তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক ও বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও স্মরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও কারাবরণ সত্ত্বেও গণতন্ত্রের জন্য তাঁর সংগ্রাম ও দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

মোশাররফ বলেন, নতুন সংসদের উচিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শক্তিশালী করা এবং মুক্তিযুদ্ধের নিরপেক্ষ ইতিহাস সংরক্ষণ করে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করা।

আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দেশের অগ্রযাত্রায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা আজ শুরু হলো। আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।’


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত