ঢাকা, বাংলাদেশ    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
অগ্নিশিখা

ফাঁকা থাকছে শ্রেণিকক্ষ, অব্যবস্থাপনা, দুর্বল পাঠদান ও তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন অভিভাবকেরা

বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট



বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট

মোঃ ইলিয়াস, মিয়া বরগুনা: দৃষ্টিনন্দন ভবন আছে, শ্রেণিকক্ষ আছে, শিক্ষকও আছেন— নেই কেবল শিক্ষার্থী। বরগুনা সদরের অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এখন এমনই। কোথাও দুজন, কোথাও পাঁচজন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে পুরো বিদ্যালয়। দুপুরের পর অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীও থাকে না।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, মানসম্মত পাঠদানের ঘাটতি, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ এবং প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতার কারণে সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা কমছে। ফলে অভিভাবকেরা বাড়তি খরচ করে সন্তানদের কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় পাঠাচ্ছেন।

দুই শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচ শিক্ষক

বরগুনা সদর উপজেলার মধ্য পাঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আধুনিক ভবন থাকলেও শিক্ষার্থী মাত্র দুজন। পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত তিনজন। প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কেউই ছিলেন না।

পাশের চড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই অবস্থা। পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য দায়িত্বে ছিলেন দুজন শিক্ষিকা, প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত।

পূর্ব হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজনের মধ্যে দুজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। হাজিরা খাতায় চারজনেরই স্বাক্ষর থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে খালি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চের ওপর ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঁচজন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে পড়াচ্ছিলেন একজন শিক্ষক।

উত্তর দেশান্তরকাঠী ও সর্দারপাড়া হাবিবুর রহমান চানমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। একটিতে একজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন, অন্যটির শ্রেণিকক্ষ ছিল পুরোপুরি ফাঁকা।


অভিভাবকেরা যা বলছেন

সদরের বাসিন্দা মারুফের মা মরিয়ম ও বাবা সেলিম বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের বিদ্যালয়ে থাকতে হয়, কিন্তু যত্ন ও পড়াশোনার মান সন্তোষজনক নয়। তাই বাড়ির কাছে সরকারি স্কুল থাকা সত্ত্বেও দূরের কিন্ডারগার্টেনে পাঠাতে হচ্ছে।

আরেক অভিভাবক রিক্তা বলেন, বাড়ির পাশে স্কুল থাকতেও পাঁচ কিলোমিটার দূরের কিন্ডারগার্টেনে সন্তানকে নিতে হচ্ছে।


পরিসংখ্যান বলছে

জেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ হাজার ৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ৭৯৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ৮১ হাজার ৯০০ জন। মঞ্জুরিকৃত শিক্ষক পদ ৫ হাজার ৪৭টি, এর মধ্যে ৪৬৪টি পদ শূন্য। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত প্রায় ১:১৮।


কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ছালেহ বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি, তাই শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। শিক্ষকদের সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগের লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মিছ, তাছলিমা আক্তার বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়া ও শিক্ষার মান নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

অগ্নিশিখা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মোঃ ইলিয়াস, মিয়া বরগুনা: দৃষ্টিনন্দন ভবন আছে, শ্রেণিকক্ষ আছে, শিক্ষকও আছেন— নেই কেবল শিক্ষার্থী। বরগুনা সদরের অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এখন এমনই। কোথাও দুজন, কোথাও পাঁচজন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে পুরো বিদ্যালয়। দুপুরের পর অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীও থাকে না।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, মানসম্মত পাঠদানের ঘাটতি, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ এবং প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতার কারণে সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা কমছে। ফলে অভিভাবকেরা বাড়তি খরচ করে সন্তানদের কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় পাঠাচ্ছেন।

দুই শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচ শিক্ষক

বরগুনা সদর উপজেলার মধ্য পাঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আধুনিক ভবন থাকলেও শিক্ষার্থী মাত্র দুজন। পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত তিনজন। প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কেউই ছিলেন না।

পাশের চড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই অবস্থা। পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য দায়িত্বে ছিলেন দুজন শিক্ষিকা, প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত।

পূর্ব হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজনের মধ্যে দুজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। হাজিরা খাতায় চারজনেরই স্বাক্ষর থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে খালি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চের ওপর ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঁচজন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে পড়াচ্ছিলেন একজন শিক্ষক।

উত্তর দেশান্তরকাঠী ও সর্দারপাড়া হাবিবুর রহমান চানমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। একটিতে একজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন, অন্যটির শ্রেণিকক্ষ ছিল পুরোপুরি ফাঁকা।


অভিভাবকেরা যা বলছেন

সদরের বাসিন্দা মারুফের মা মরিয়ম ও বাবা সেলিম বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের বিদ্যালয়ে থাকতে হয়, কিন্তু যত্ন ও পড়াশোনার মান সন্তোষজনক নয়। তাই বাড়ির কাছে সরকারি স্কুল থাকা সত্ত্বেও দূরের কিন্ডারগার্টেনে পাঠাতে হচ্ছে।

আরেক অভিভাবক রিক্তা বলেন, বাড়ির পাশে স্কুল থাকতেও পাঁচ কিলোমিটার দূরের কিন্ডারগার্টেনে সন্তানকে নিতে হচ্ছে।


পরিসংখ্যান বলছে

জেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ হাজার ৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ৭৯৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ৮১ হাজার ৯০০ জন। মঞ্জুরিকৃত শিক্ষক পদ ৫ হাজার ৪৭টি, এর মধ্যে ৪৬৪টি পদ শূন্য। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত প্রায় ১:১৮।


কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ছালেহ বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি, তাই শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। শিক্ষকদের সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগের লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মিছ, তাছলিমা আক্তার বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়া ও শিক্ষার মান নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।


অগ্নিশিখা

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মোর্শেদ আলম
সম্পাদক কর্তৃক “তুহিন প্রেস”, ২১৯/২, ফকিরাপুল (১ম গলি), ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় । সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ করিম চেম্বার (৪র্থ তলা) ৯৯ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ অগ্নিশিখা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত