অগ্নিশিখা অনলাইন
অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘটল ২১ বছরের এক রূপকথার। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথেই অবসান হলো আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য অধ্যায়। দুই দশকের পথচলায় দেশকে বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা উপহার দেওয়া এই আলবিসেলেস্তে মহাতারকার বিদায়ে স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব। আর ফুটবল জাদুকরকে হারিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন আট বছর তার ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি।
বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেসির বিদায়ী ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে দলের তিনটি গোলেই সরাসরি অবদান ছিল ৩৯ বছর বয়সী মেসির। ৪৮ মিনিটে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি ও ৬১ মিনিটে তরুণ ফরোয়ার্ড নিকো পাজকে দিয়ে দুটি চোখধাঁধানো গোল করান তিনি। আর ৭১তম মিনিটে নিখুঁত পেনাল্টি শটে বেনিনের জাল কাঁপিয়ে নিজের ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল পূর্ণ করেন এলএমটেন।
বিদায়বেলায় নিকো পাজ, থিয়াগো আলমাদাদের মতো মেসির যে উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে নিজের জীবনের সেরা অর্জন হিসেবে দেখছেন আলবিসেলেস্তে কোচ স্কালোনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসির অবদান তুলে ধরে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মেসি জাতীয় দলের হয়ে যে উত্তরাধিকার রেখে গেছে, সেটা অবিশ্বাস্য। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে কাজ করবে এটি। মাঠে তার মতো ফুটবলার আর কখনো পাওয়া যাবে না। তার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’
২০১৮ সাল থেকে আর্জেন্টিনার ডাগআউটে থাকা স্কালোনির মূল ভিত্তিই ছিলেন মেসি। একসময় স্কালোনি নিজেই বলেছিলেন, একাদশে একমাত্র মেসির স্থানই চূড়ান্ত, বাকি সব পজিশন আলোচনার বিষয়। এবার থেকে সেই চিরচেনা মেসিকে ছাড়াই স্কালোনিকে আগামীর আর্জেন্টিনা দল সাজাতে হবে। তবে জাতীয় দলের ডাগআউটে থাকবেন কি না, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সাথে স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। নতুন করে ২০৩০ পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখে আর্জেন্টাইন কোচ জানান, ‘এখনো কোনো নতুন আপডেট নেই। তবে সবকিছু ভালোভাবে এগোলে আমি কোচিং চালিয়ে যাব।’
বিদায়ী ম্যাচে মেসির আবেগঘন ভাষণ শোনার সময় স্কালোনি থেকে শুরু করে গ্যালারির হাজার হাজার সমর্থক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এনজো ফার্নান্দেজসহ সতীর্থ অনেকের চোখেই দেখা গেছে অশ্রুর ধারা। আতশবাজির আলো আর কেন্দ্রবৃত্তে মেসিকে ঘিরে ফুটবলারদের উদযাপনের মধ্য দিয়েই শেষ হলো আর্জেন্টিনার ‘মেসি যুগ’।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
অগ্নিশিখা অনলাইন
অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘটল ২১ বছরের এক রূপকথার। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথেই অবসান হলো আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য অধ্যায়। দুই দশকের পথচলায় দেশকে বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা উপহার দেওয়া এই আলবিসেলেস্তে মহাতারকার বিদায়ে স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব। আর ফুটবল জাদুকরকে হারিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন আট বছর তার ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি।
বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেসির বিদায়ী ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে দলের তিনটি গোলেই সরাসরি অবদান ছিল ৩৯ বছর বয়সী মেসির। ৪৮ মিনিটে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি ও ৬১ মিনিটে তরুণ ফরোয়ার্ড নিকো পাজকে দিয়ে দুটি চোখধাঁধানো গোল করান তিনি। আর ৭১তম মিনিটে নিখুঁত পেনাল্টি শটে বেনিনের জাল কাঁপিয়ে নিজের ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল পূর্ণ করেন এলএমটেন।
বিদায়বেলায় নিকো পাজ, থিয়াগো আলমাদাদের মতো মেসির যে উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে নিজের জীবনের সেরা অর্জন হিসেবে দেখছেন আলবিসেলেস্তে কোচ স্কালোনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসির অবদান তুলে ধরে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মেসি জাতীয় দলের হয়ে যে উত্তরাধিকার রেখে গেছে, সেটা অবিশ্বাস্য। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে কাজ করবে এটি। মাঠে তার মতো ফুটবলার আর কখনো পাওয়া যাবে না। তার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’
২০১৮ সাল থেকে আর্জেন্টিনার ডাগআউটে থাকা স্কালোনির মূল ভিত্তিই ছিলেন মেসি। একসময় স্কালোনি নিজেই বলেছিলেন, একাদশে একমাত্র মেসির স্থানই চূড়ান্ত, বাকি সব পজিশন আলোচনার বিষয়। এবার থেকে সেই চিরচেনা মেসিকে ছাড়াই স্কালোনিকে আগামীর আর্জেন্টিনা দল সাজাতে হবে। তবে জাতীয় দলের ডাগআউটে থাকবেন কি না, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সাথে স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। নতুন করে ২০৩০ পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখে আর্জেন্টাইন কোচ জানান, ‘এখনো কোনো নতুন আপডেট নেই। তবে সবকিছু ভালোভাবে এগোলে আমি কোচিং চালিয়ে যাব।’
বিদায়ী ম্যাচে মেসির আবেগঘন ভাষণ শোনার সময় স্কালোনি থেকে শুরু করে গ্যালারির হাজার হাজার সমর্থক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এনজো ফার্নান্দেজসহ সতীর্থ অনেকের চোখেই দেখা গেছে অশ্রুর ধারা। আতশবাজির আলো আর কেন্দ্রবৃত্তে মেসিকে ঘিরে ফুটবলারদের উদযাপনের মধ্য দিয়েই শেষ হলো আর্জেন্টিনার ‘মেসি যুগ’।

আপনার মতামত লিখুন