মোঃ ইলিয়াস মিয়া, বরগুনা : দ্বিতীয় সুন্দরবন’ হিসেবে পরিচিত বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে কার্যালয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাওন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আজ শনিবার ৩ অক্টোবর সরেজমিনে নলবুনিয়া বিট কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সংরক্ষিত বনের মূল্যবান গাছ কেটে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কার্যালয়ের রান্নাঘরে সেই কাঠ চুলার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে রান্না করতেও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের গাছপালা রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর, তারাই যদি এভাবে গাছ উজাড় করেন, তবে ১৩ হাজার ৬৪৪ একরের এই সংরক্ষিত বন ধ্বংসের মুখে পড়বে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমান বলেন, “সরকার যেখানে সারাদেশে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে, সেখানে বন বিভাগ নিজেই উল্টো বনের মূল্যবান গাছ জ্বালানি কাঠ হিসেবে চুলায় পোড়াচ্ছে। যাদের উপর বন সুরক্ষার দায়িত্ব, তারাই যদি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে, তবে কোনোভাবেই বন ও পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, টেংরাগিরি বনাঞ্চলটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলের মানুষকে রক্ষা করে। এভাবে বন উজাড় হতে থাকলে উপকূলীয় জনপদ চরম দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়বে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাওন বনের গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। উল্টো সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন তিনি।
এ বিষয়ে বন বিভাগের বরগুনা কার্যালয়ের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন ভূঞা বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে গাছগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এছাড়া তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে অবৈধভাবে গাছ কাটার সত্যতা পেয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, বন উজাড়ের বিষয়টি বেশ কয়েকবার বন বিভাগকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
মোঃ ইলিয়াস মিয়া, বরগুনা : দ্বিতীয় সুন্দরবন’ হিসেবে পরিচিত বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে কার্যালয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাওন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আজ শনিবার ৩ অক্টোবর সরেজমিনে নলবুনিয়া বিট কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সংরক্ষিত বনের মূল্যবান গাছ কেটে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কার্যালয়ের রান্নাঘরে সেই কাঠ চুলার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে রান্না করতেও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের গাছপালা রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর, তারাই যদি এভাবে গাছ উজাড় করেন, তবে ১৩ হাজার ৬৪৪ একরের এই সংরক্ষিত বন ধ্বংসের মুখে পড়বে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমান বলেন, “সরকার যেখানে সারাদেশে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে, সেখানে বন বিভাগ নিজেই উল্টো বনের মূল্যবান গাছ জ্বালানি কাঠ হিসেবে চুলায় পোড়াচ্ছে। যাদের উপর বন সুরক্ষার দায়িত্ব, তারাই যদি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে, তবে কোনোভাবেই বন ও পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, টেংরাগিরি বনাঞ্চলটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলের মানুষকে রক্ষা করে। এভাবে বন উজাড় হতে থাকলে উপকূলীয় জনপদ চরম দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়বে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাওন বনের গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। উল্টো সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন তিনি।
এ বিষয়ে বন বিভাগের বরগুনা কার্যালয়ের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন ভূঞা বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে গাছগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এছাড়া তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে অবৈধভাবে গাছ কাটার সত্যতা পেয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, বন উজাড়ের বিষয়টি বেশ কয়েকবার বন বিভাগকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন