ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা: কোটা অর্ধেক, কড়া শর্ত

মাহাফুজুল হাসান মেহেদীঃ  দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে পূর্বে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত এই বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ—কোনো খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী বা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানই আগে অনুমোদিত সীমার অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠাতে পারবে না।আরো পড়ুন >>  ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীকোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ১০টি কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। শর্তানুযায়ী, রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর সব বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি চালান জাহাজীকরণের আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালের মান ও সত্যতা যাচাই করবে এবং কাজ শেষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। নতুন কোনো আবেদনের ক্ষেত্রে আগের কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দর সুরক্ষায় প্রতি কেজি চালের সর্বনিম্ন এফওবি (FOB) রপ্তানিমূল্য ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন নীতিমালায় এই অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য রাখা হয়েছে, ফলে সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চাল রপ্তানির কোনো সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় দেশে আসার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে ‘প্রোসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট’ বা পিআরসি দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই এই অনুমোদন বাতিলের অধিকার সংরক্ষণ করে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান সর্বসাকুল্যে ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করতে পেরেছে। মূলত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের চেয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের খাদ্য সরবরাহ ও মূল্যস্থিতি বজায় রাখাকেই সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় চাল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ না করে একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা: কোটা অর্ধেক, কড়া শর্ত