ঢাকা, বাংলাদেশ    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
অগ্নিশিখা

কৃষি

পঞ্চগড়ের কৃষকরা ঝুঁকছে বাদাম চাষে, নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে তৈরি

অগ্নিশিখা অনলাইননদীর চর ও পরিত্যক্ত জমি কাজে লাগিয়ে বাদাম চাষে নতুন স্বপ্ন বুনছেন পঞ্চগড়ের প্রান্তিক কৃষকরা। ভৌগোলিক পরিবেশ, উপযুক্ত আবহাওয়া, কম ঝুঁকি এবং সীমিত উৎপাদন খরচে অধিক মুনাফা মেলায় জেলার চাষিরা এখন উচ্চ ফলনশীল বাদাম চাষে ঝুঁকছেন। বাদাম চাষের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বাদাম প্রসেসিং (খোসা ছাড়ানো) মিল গড়ে ওঠায় এই জনপদের অর্থনীতি ও সামাজিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসছে।কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে দেবীগঞ্জ, বোদা ও সদর উপজেলায় বাদামের বাম্পার ফলন দেখা গেছে। কৃষকরা জানান, বিঘা প্রতি প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচে গড়ে ১০ মণ বাদাম পাওয়া যায়। বাজারে আকর্ষণীয় আকারের কারণে পাইকারি দর মিলছে প্রতি মণ ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে স্বল্প খরচে ভালো লাভ পেয়ে সচ্ছল হয়ে উঠছেন চাষিরা।বাদাম চাষকে কেন্দ্র করে জেলায় ২৫ থেকে ৩০টি প্রসেসিং মিল গড়ে উঠেছে। এখানে খোসা ছাড়ানো বাদাম প্রস্তুত করে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় অনেক বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে কর্মরত নারী শ্রমিকরা এখনও কিছুটা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা মজুরি পেলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ায় তারা স্বস্তির কথা জানিয়েছেন।এমন একটি বাদাম মিলে কাজ করেন শরিফা খাতুন। তিনি বলেন, সংসারের কাজ কর্ম শেষ করে স্বামীর সঙ্গে তিনিও বাদাম মিলে কাজ করে প্রতিদিন ৩০০ টাকা আয় করেন। পুরুষের সঙ্গে নারীরা সমান তালে কাজ করলেও নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদের কাজ করে মজুরি মিলে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। তারপরেও কাজ করতে পেরে খুশি তারা।এদিকে, পর্যাপ্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সুবিধার অভাবের কথা বলছেন মিল মালিক ও কৃষকরা। দেবীগঞ্জের এক মিল মালিক আকতারুজ্জামান জানান, মিল মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের বিষয়ে জেলা কৃষি সভায় একাধিকবার দাবি তোলা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ঋণ সুবিধা, সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে আরও বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব।পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন জানান, জেলায় এ বছর প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। বাদাম চাষে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ফলে প্রতি বছরেই চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানা পর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০টি বাদাম প্রসেসিং (খোসা ছড়ানো) মিল বসেছে। এই মিল গুলিতে এলাকার অনেক বেকার নারী ও পুরুষ শ্রমিক কাজ করছে। এতে অনেক বেকার সমস্যার সমাধান হয়েছে।পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, এ অঞ্চলে কৃষি অর্থনীতির সম্ভাবনা বিরাজ করায় ইতোমধ্যে সরকার দেবীগজ্ঞ এলাকাকে অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশাল কলেবরে গড়ে উঠা এই অর্থনৈতিক জোন দেশের জাতীয় অর্থনীতিকে সমন্বয় করবে।

পঞ্চগড়ের কৃষকরা ঝুঁকছে বাদাম চাষে, নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে তৈরি