উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শাহীন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ||
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে দুর্ঘটনাকে মামলা দায়েরের পর স্বামী-স্ত্রীকে প্রায় তিন বছর ধরে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামি অকুল সরকার ও তার স্ত্রী মিঠু রানী সরকার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।মামলার নথি ও আসামিপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মির্জাপুর গ্রামের বিশ্বনাথ সরকারের স্ত্রী ববিতা রানী সরকার বাড়ির রাস্তার পাশে একটি জানালার বাড়তি দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হন। পরে তাকে আমতলী বাজারের লক্ষ্মী মেডিসিন পয়েন্টে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।অকুল সরকার বলেন, “আমি ঘটনার সময় বাজারে আমার দোকানে ছিলাম। লক্ষ্মী মেডিসিন পয়েন্টে তাকে চিকিৎসা নেওয়ার সময় দেখতে পাই। প্রতিবেশী হিসেবে আমি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাঠানোর জন্য সিএনজি ভাড়া করে দিই। অথচ পরবর্তীতে আমাকেই মামলার আসামি করা হয়েছে।”১৭ অক্টোবর লক্ষ্মী মেডিসিন পয়েন্টে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার সময় ববিতা রানী সরকার কীভাবে আহত হয়েছেন—এ বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সেখানে তিনি দেয়ালে ধাক্কা লেগে আহত হওয়ার কথা চিকিৎসাকেন্দ্রের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য উঠে আসে। চিকিৎসা নেওয়ার সময় মামলার ২ নম্বর আসামি অকুল সরকারের দোকানটি লক্ষ্মী মেডিসিন পয়েন্টের পাশে থাকায় তিনি দোকান থেকে এসে আহত নারীকে চিকিৎসা নিতে সহযোগিতা করেন।এমনকি ১৭ অক্টোবরের চিকিৎসা টিকিট নম্বর ৪২৫২৪ চিকিৎসা নথিতে পুলিশ কেসের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না।পরবর্তীতে ২২ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ৪৪০৫৬ নম্বর সিরিয়ালে পুলিশ কেস হিসেবে পুনরায় চিকিৎসা নেওয়া হয়।পরবর্তীতে বিজয়নগর থানার পক্ষ থেকে তথ্য চাওয়া হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট শাখা জেহাব্রা/প্রশাসন/২৩/৯১৯৪ স্মারকে পুলিশ কেস সনদ দিতে অনীহার কথা প্রকাশ করেন এবং সেখানে রোগীর ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য ‘Accidental Head Injury’ হিসেবে উল্লেখ ছিল।পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে বিজয়নগর থানার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে ১৭ অক্টোবরের চিকিৎসাপত্রে পুলিশ কেস উল্লেখ না থাকা এবং ২২ অক্টোবর পুনরায় চিকিৎসা নিয়ে পুলিশ কেস উল্লেখ করার বিষয়টি তুলে ধরা হয় বলে আসামিপক্ষ জানিয়েছে।মামলাটির তদন্তে ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ বিজয়নগর থানার তদন্ত প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৩২৪, ৩২৬ ও ৩৭৯ ধারায় অপরাধের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আসামিপক্ষ।পুলিশের ওই প্রতিবেদনের পর বাদীপক্ষ নারাজি দিলে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করা হয়। ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের সিআইডিএর তদন্ত প্রতিবেদনেও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ৩২৪ ও ৩২৬ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৩৭৯ ধারার অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে বলে তাদের দাবী।আসামিপক্ষের দাবি, মামলার কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্য পর্যালোচনা করলেও ঘটনার সময় তারা সরাসরি কোনো মারামারি প্রত্যক্ষ করেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।মামলার ১ নম্বর আসামি মিঠু রানী সরকার আহত ববিতা রানী সরকারকে আঘাত করেছেন—এমন প্রত্যক্ষদর্শী বক্তব্যও তদন্তে পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, সিআইডি-এর তদন্তে কোনো এক সাক্ষীর বক্তব্যে অকুল সরকারকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে তবে অকুল সরকারের দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাজারে নিজের দোকানে ছিলেন এবং পরে আহত নারীকে চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করেছিলেন।ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে আহত নারী কী বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটি মামলার ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে আসামিপক্ষ।তবে চিকিৎসাকেন্দ্রের মূল রেকর্ড, চিকিৎসকের নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সাক্ষ্য এবং আদালতে উপস্থাপিত অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এ বক্তব্যের আইনগত গুরুত্ব নির্ধারিত হবে।আসামিপক্ষ আরও দাবি করেছে, আহত ববিতা রানী সরকারের দেবর পরিমল সরকার ২১ অক্টোবর ঢাকা থেকে চিকিৎসা শেষে ফেরার সময় অ্যাম্বুলেন্সে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। ওই ভিডিওতে তাকে মামলার আসামিদের নাম বলার জন্য শেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে আসামিপক্ষ।তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের প্রেক্ষাপট এবং বক্তব্যের আইনগত গ্রহণযোগ্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আদালতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।মামলার আসামি অকুল সরকার ও তার স্ত্রী মিঠু রানী সরকার দাবি করছেন, ঘটনার পর থেকে মামলাটি চলমান থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও সামাজিক হয়রানির মধ্যে রয়েছেন।অকুল সরকার বলেন, “আমি কারও সঙ্গে অন্যায় করিনি। দুর্ঘটনার শিকার একজন প্রতিবেশীকে মানুষ হিসেবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। অথচ সেই ঘটনাতেই আমাকে ও আমার স্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা মামলার কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য আদালত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই এবং ষড়যন্ত্রকারী যারাই জড়িত থাকে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য দাবি জানাই। ববিতা রানীকে ভিডিওতে শেখানো পরিমল সরকার তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে এমন মিথ্যা মামলা দায়ের করান। আমি চাই মামলার সাক্ষী করাতে কিন্তু তারা আমাকে অধিকতর হয়রানি করার জন্য মামলাটি জর্জ কোর্টে নিয়েছে।