উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
অগ্নিশিখা অনলাইনদশ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগামী ২৯ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেলের স্যান্ডোর কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের কার্যক্রম। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোর পরিচালিত এ কেন্দ্রটি বন্ধ হলে বিপাকে পড়বেন এখানে চিকিৎসা নেয়া ২৭৬ জন কিডনি রোগী। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন মেশিন স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত সেন্টারটি চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্যান্ডোর ডায়ালাইসিস সেন্টার। স্বল্পমূল্যে এখান থেকে ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছেন এ অঞ্চলের কিডনি রোগীরা।পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দশ বছরের চুক্তি করে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোর। আগামী ২৯ নভেম্বর সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপরই বন্ধ হয়ে যাবে সেন্টারটির সব ধরনের কার্যক্রম।এতে উদ্বেগ বেড়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে। কারণ, সেন্টারটি বন্ধ হলে বিপাকে পড়বেন বর্তমানে এখানে চিকিৎসা নেয়া ২৭৬ জন কিডনি রোগী। তাদের মধ্যে ১৮১ জন নেগেটিভ রোগী এবং ৯৫ জন পজিটিভ রোগী। পজিটিভ রোগীদের সেবা দিতে চট্টগ্রামে আর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।একজন রোগীর স্বজন বলেন, এখন যদি এটা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তো এটা বিনা মেঘে মাথার ওপর বজ্রপাতের মতো অবস্থা। এই অসহায় রোগীগুলো এখন কোথায় যাবে?আরেকজন রোগীর স্বজন বলেন, এটা যদি একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে মৃত্যু ছাড়া রোগীর আর কোনো পথ নেই।আরেকজন বলেন, কিডনি রোগীদের পরিবারের মতো অসহায় আর কেউ নেই। আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়ে এখানে এসেছি।সেন্টারটিতে বর্তমানে কাজ করছেন ৪৫ জন কর্মী। এটি বন্ধ হলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন তারাও।স্যান্ডোরের সহকারী ব্যবস্থাপক তায়েফ রহমান বলেন, ‘সরকার থেকে আমাদের আসলে ২৯ নভেম্বরের পর কী হবে, সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’তবে সেন্টারটি বন্ধ হলেও সরকারি পর্যায়ে নতুন করে ডায়ালাইসিস মেশিন বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক।চট্টগ্রাম মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, যদি ওদের সঙ্গে চুক্তিটা শেষ হয়ে যায়, আমাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আমাদের যে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপো বা সিএইচডি আছে, তারা প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমাদের এখানে ৩১টি মেশিন এবং ন্যাশনাল কিডনি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬০টি মেশিনের ক্রয় প্রক্রিয়া, প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ইন্টারিম পিরিয়ডে রোগীদের কীভাবে সেবা দেয়া যায়, আমরা আমাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারব।তবে নতুন সেন্টার নির্মাণ করতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই নতুন সেন্টার নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সেন্টারটি চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।একজন রোগীর স্বজন বলেন, আমাদের এখান থেকে বাইরে চলে গেলে তো অন্য জায়গায় ডায়ালাইসিস করতে পারব না। আমাদের সামর্থ্য কম।আরেকজন বলেন, ওটা তৈরি হতে হতে এই সেন্টারটা থাকুক। না হলে আমরা তো রোগীগুলোকে নিয়ে কোথায় যাব?অন্য আরেকজন বলেন, যখন পাচ্ছি, যখন দৌড়াই, আমরা এসে রোগীগুলোকে চিকিৎসা দিতে পারছি। কিন্তু অন্য জায়গায় তো এটা আমরা আর পাব না।মেডিকেলের নিচতলায় ২০১৭ সালের ৪ মার্চ ৩১টি মেশিন নিয়ে যাত্রা শুরু করে স্যান্ডোর ডায়ালাইসিস সেন্টার। এছাড়া মেডিকেলের ২০টি মেশিনে ডায়ালাইসিস সেবা পাচ্ছেন ৯০ জন রোগী।