উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
মোঃ রকিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বহিরাগতদের দিয়ে হামলা ও দখলের হুমকি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক চাপের অভিযোগে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রম। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও আকস্মিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। এ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া একতরফাভাবে কোনো কমিটি গঠনের চেষ্টা হলে পাল্টা কমিটি ঘোষণা এবং আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন সদস্য।প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, কার্যনির্বাহী কমিটির পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। সভার অন্যতম এজেন্ডা ছিল নির্বাচন কমিশন ও ট্রাইব্যুনাল অনুমোদন। এ জন্য ক্লাবের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।তবে নির্ধারিত সময়ে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তা স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, বহিরাগত একটি পক্ষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার হস্তক্ষেপে প্রেসক্লাবের স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্নার অভিযোগ, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে বহিরাগত কয়েকজন প্রেসক্লাব দখলের উদ্দেশ্যে ক্লাব প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে তারা স্থান ত্যাগ করেন।শরিফুল ইসলাম ইন্না বলেন, ‘সকালে খবর পাই, বহিরাগতরা প্রেসক্লাব দখল করতে সেখানে অবস্থান নিয়েছে। খবর পেয়ে আমি উপস্থিত হলে তারা আমাকে দেখে বের হয়ে যায়। আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সভার মাধ্যমে এবং গোপন ব্যালটে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তিরাই প্রেসক্লাবের দায়িত্ব নেবেন। আমরা সিলেকশন নয়, গণতন্ত্র চাই।’তিনি আরও বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু সকালে বহিরাগতদের অবস্থানের কারণে সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।শরিফুল ইসলাম ইন্না বলেন, ‘অধিকাংশ সদস্যই নির্বাচনের পক্ষে। কিন্তু দু-একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে আছেন, যাতে তাঁরা কমিটি গঠন করে দেন। চাপিয়ে দেওয়া কোনো কমিটি আমরা মানব না। নির্বাচন ছাড়া কমিটি গঠনের চেষ্টা হলে একই দিনে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং আদালতে মামলা করা হবে। নেতাদের প্রতি আহ্বান, আপনাদের পছন্দের কেউ থাকলে নির্বাচনে তাঁকে সমর্থন দিন।’এদিকে প্রেসক্লাবের নির্বাচন ও সাধারণ সভা ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের একটি অংশ বলছে, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।তবে বহিরাগতদের দখলের চেষ্টা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক চাপের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা বা অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলরা বলছেন, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক স্বাধীনতা ও সদস্যদের ভোটাধিকার রক্ষায় গঠনতান্ত্রিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।