উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
খালিদ হোসাইন শান্ত, ঢাকা ||
গণপরিবহনে যৌন হয়রানি, রাতে নিরাপদ চলাচলে অনিশ্চয়তা, পারিবারিক নির্যাতন, ধর্ষণ, সামাজিক বৈষম্য এবং শিক্ষা ও খেলাধুলায় মেয়েদের সুযোগের ঘাটতি—নারীর এসব সংকট চিহ্নিত করে সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইনার হুইল ক্লাব অব শান্তিনগর-ঢাকা। ‘বন্ধ হোক নারীর প্রতি সহিংসতা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নিরাপত্তা, শিক্ষা, খেলাধুলা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করেই নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব।ক্লাবের চার্টার প্রেসিডেন্ট পারভীন সুলতানা নীতু বলেন, “নারীর প্রতি নিপীড়ন, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা ও খেলাধুলায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অনেক মেয়ে নিরাপদ মাঠের অভাব, সামাজিক বাধা ও পরিবারের অনীহার কারণে খেলাধুলা থেকে দূরে থাকে। সরকারকে মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও সহজলভ্য খেলার মাঠ, প্রশিক্ষণ, কোচিং ও প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।”তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব ও বিভিন্ন পেশায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও নারীর প্রতি সহিংসতা এখনো একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ। নিত্য চলাচলের গণপরিবহন, রিক্সা, যত্রতত্র হয়রানি থেকে শুরু করে পারিবারিক সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ নারীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তাকে বাধাগ্রস্ত করছে।পারভীন সুলতানা নীতু বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের পরিবর্তন। নারীকে সম্মান করা, তার অধিকার নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার সংস্কৃতি আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই মেয়েরা শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলাতেও নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাক। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মেয়েদের জন্য নিয়মিত ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, নারী প্রশিক্ষক, নিরাপদ খেলার পরিবেশ এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য বৃত্তি ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে পারবে।” বাংলাদেশে ক্রীড়াভিত্তিক কর্মসূচি মেয়েদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব ও সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সালমা পারভীন বলেন, রাতে নারীর নির্বিঘ্ন চলাচল এবং অফিস সময়ে সাধারণ বাসে নারী যাত্রীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। “নিরাপদ গণপরিবহন, জবাবদিহি এবং নারীবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে,” বলেন তিনি।ক্লাবের ট্রেজারার সাজেদা ডলি, নারী নিপীড়ন ও হয়রানির পাশাপাশি শিক্ষায় নারীর সুযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে শিক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশ, ঝরে পড়া রোধ এবং উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।”বক্তারা বলেন, নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন শুধু নারীর দায়িত্ব নয়; পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।