উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিপ্লব হোসেন (ফারুক) ||
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বুড়িহাটি উচ্চ বিদ্যালয় নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ, বিষয় পরিবর্তন, পুরোনো শিক্ষকের পদ হারানো এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, লতা সূত্রধর ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টিতে জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। পরে তাঁর নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রে বিষয় পরিবর্তন করে কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদানের অভিযোগ উঠেছে। কী প্রক্রিয়ায় এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে এ পরিবর্তন হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। বিষয়টি যাচাই করতে নিয়োগপত্র, এমপিও সংক্রান্ত কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, শিক্ষক সংকট ও বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের অসামঞ্জস্যের কারণে বিশেষ করে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা জরুরি।স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর পাঠদান নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপ ও নানা আশঙ্কায় তাঁরা প্রকাশ্যে কথা বলতে অনাগ্রহী। অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুড়িহাটি উচ্চ বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২৩ সালে এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম, রুবিনা বেগম ও ধর্মীয় শিক্ষক ফরিদ হোসেনের নাম পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে লতা সূত্রধর, মনোরঞ্জন সূত্রধর ও সাদিকুর রহমান খান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন বলে জানা গেছে।তবে এসব তথ্যের সরকারি নথিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নের সহকারী শিক্ষক শামসুল আলমের বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ের শুরুতে রেজুলেশন খাতায় তাঁর নাম থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন নথিতে তাঁর অবস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এমনকি তাঁর মার্কশিট সংক্রান্ত বিষয় গোপন রাখার কারণে তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।শামসুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। পরবর্তীতে জেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেননি।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় শামসুল আলমের শ্রম ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছিল। তাঁর মতো একজন শিক্ষক কর্মরত অবস্থায় বিদ্যালয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন—এমন অভিযোগ দুঃখজনক এবং বিষয়টি নথিপত্রের ভিত্তিতে তদন্ত হওয়া উচিত।বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি নেই বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এডহক কমিটি গঠনের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর নজরদারি না থাকায় সমস্যাগুলো জটিল হয়েছে। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, বিষয়ভিত্তিক পাঠদান, এমপিও সংক্রান্ত নথি, পরিচালনা কমিটি এবং প্রতিষ্ঠাকালীন রেজুলেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই করা জরুরি।একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। তাই বুড়িহাটি উচ্চ বিদ্যালয় নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোকে ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে না দেখে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।বিশেষ করে নবম ও দশম শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে। তাঁদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কোনো ব্যক্তিগত প্রভাব বা বিরোধের কারণে অন্ধকারে থাকা উচিত নয়।