উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অগ্নিশিখা অনলাইন ||
বাংলাদেশে রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ছাড়াও বিভিন্ন সংসদ সদস্য অংশ নেন।সভায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ভয় ও বাকস্বাধীনতা হরণের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তাঁর ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘদিনের গুমের ঘটনা তুলে ধরেন। ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ও হুমাম কাদের চৌধুরী আয়নাঘরে বন্দিজীবন ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা তাঁর স্বামী বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা তুলে ধরে এর বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলীকে গুম করার মধ্য দিয়ে দেশে গুমের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তাঁদের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং তৎকালীন সরকারের গুম ও ভয়ভীতির পরিবেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশে সংঘটিত গুম, হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নিপীড়নের ঘটনাকে অমানবিক ও জঘন্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি এসব ঘটনার সঙ্গে তাঁর নিজ দেশ রোমানিয়ায় নিকোলায়ে চউশেস্কুর শাসনামলের দমন-পীড়নের মিল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।সফর শেষে বাংলাদেশে সংঘটিত গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের বিষয়ে আইপিইউর গভর্নিং বডির কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানান তিনি।সভায় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, তাহসিনা রুশদীর, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, সানজিদা ইসলাম, মাধবী মারমাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।