উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অগ্নিশিখা অনলাইন ||
হামলা ও থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছেন দ্য রিয়েল কনসালটেশনের সিনিয়র অ্যাডভাইজার তাওহিদুল মমিন। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনাইটেড টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজের বড় অঙ্কের ভ্যাট বিরোধ এবং কারখানা সিলগালা-সংক্রান্ত জটিলতায় আইনি পরামর্শ দেওয়ার পর চুক্তিবদ্ধ পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো টিআরসি কর্তপক্ষকে হুমকি ও হয়রানি করা হয়েছে। দ্য রিয়েল কনসালটেশন এর সিনিয়র অ্যাডভাইজার তাওহিদুল মমিন বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আইনের শাসন ও পেশাগত পরিবেশের নষ্ট করছে ইউনাইটেড টোব্যাকো ইন্ড্রাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ।তিনি জানান, ভ্যাট সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলে তার সমাধানও আইনগতভাবেই হওয়া উচিত। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু হামলা, হুমকি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।দ্য রিয়েল কনসালটেশন দাবি করেন, তারা গ্লোবাল বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এবং বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ-এর ভেন্ডর ভ্যাট কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। গত সাত বছর ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে সভা-সেমিনার আয়োজন এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। টিআরসি’র সিনিয়র অ্যাডভাইজার তাওহীদুল মমিন হামলার ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে ডিএমপির পল্লবী থানায় গত ১৭ আগস্ট একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ করা হয়, দ্য রিয়েল কনসালটেশন এবং ইউনাইটেড টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ এর মধ্যে গত ২৯ এপ্রিল উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ইউনাইটেড টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজের প্রায় ৯ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার ভ্যাট দাবি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব প্রদান এবং সিলগালাকৃত কারখানা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় চালুর বিষয়ে পেশাগত ও আইনগত সেবা প্রদানের জন্য দ্য রিয়েল কনসালটেশন এর উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। দ্য রিয়েল কনসালটেশনের সিনিয়র অ্যাডভাইজার জানান চুক্তি অনুযায়ী তারা কাজ শুরু করেন। এনবিআর ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে মামলাটির পক্ষে আইনগত ভিত্তি তৈরী করা হয়। তিনি জানান ১১ জুলাই ইউনাইটেড টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক তুহিন আহমেদ হঠাৎ চলমান কাজ বন্ধ করার ঘোষণা দেন। সাধারণ ডায়েরীতে আরও উল্লেখ করেন, কাজ বন্ধ করার পর দ্য রিয়েল কনসালটেশন এর সম্পন্নকৃত কাজের বকেয়া পাওনা, পেশাগত সম্মানী এবং চুক্তির শর্তসমৃহ স্মরণ করিয়ে দেয় দ্য রিয়েল কনসালটেশন। সিনিয়র অ্যাডভাইজার জানান তাদের পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। অগ্নিশিখার কাছে আসা কাগজপত্র যাচাই করে জানা যায়, ইউনাইটেড টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এনবিআর সিলগালা করে। পরবর্তীতে মামলার ৯ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকাসহ কারখানা সিলগালা করা হয়। বিষয়টি ফৌজদারী মামলা যোগ্য হলেও শুধুমাত্র ভ্যাট আইনে মামলার চুক্তি সম্পাদন করা হয়। দ্য রিয়েল কনসালটেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের পাওনা পরিশোধ না করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান ও চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়ায় অফিসে বহিরাগত লোক নিয়ে এসে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং র্যাব এনে হয়রানির অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন সাধারণ ডায়েরী হাতে পাওয়ার পর তদন্তের স্বার্থে উভয়পক্ষ কে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তিনি জানান জিডি তদন্তনাধীন রয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে ইউনাইটেড টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী তুহিন আহমেদ কে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।