উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি ||
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে এবং ব্যবসায়ীসহ তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ কুদ্দুস (৫৫) ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ কুদ্দুস হাওলাদার। তিনি ফতুল্লা থানাধীন কাশীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর এলাকার ৭নং রোডের ১৯১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা এবং নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন রিভারভিউ কমপ্লেক্সের একজন ব্যবসায়ী।লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা তার একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা তার নিকট ১৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, মোঃ কুদ্দুসের ভাতিজা আরাফাত আল-হোসেন নয়া পল্টন এলাকায় অবস্থিত সিনটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মালিক। ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের এক আত্মীয় সৌদি আরবে যান। পরে সৌদি আরবে তার লাইসেন্স ও আকামা সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তরা মোঃ কুদ্দুস ও তার ভাতিজার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।ভুক্তভোগীর দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাকে ও তার ভাতিজাকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছিল। একপর্যায়ে তারা পেশিশক্তি ব্যবহার করে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে নজরুল ইসলাম (৫৫), তার ছেলে মুক্তার হোসেন (২৮) ও তারেক (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর এলাকার ৭নং রোডের ২১৪ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী জানান, গত ২২ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ৫ মিনিটে পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর আল আকসা মসজিদে এশার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মসজিদ সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।তিনি দাবি করেন, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং টাকা না দিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এর আগে বিষয়টি স্থানীয় আদর্শনগর পঞ্চায়েত কমিটি ও ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি তাজুল ইসলামকে জানানো হলে তারা বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।