উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সাহাবউদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি ||
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন জালকুড়ি এলাকায় গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নারায়ণগঞ্জ। হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিনের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি নিহতের স্বামী মোঃ সোহাগ মিয়া জুলহাস (৩৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।গ্রেপ্তারকৃত মোঃ সোহাগ মিয়া জুলহাসের পিতা মোঃ সেকান্দার আলী, মাতা মোসাঃ রিনা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা পূর্ব কোমরজানি (ডাক্তার বাড়ি), পোঃ কোমরপাড়া, থানা-গাইবান্ধা সদর, জেলা-গাইবান্ধা এবং বর্তমান ঠিকানা জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া (মাতবর বাড়ি), থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ।পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগ মিয়া জুলহাস নিহত তানিয়ার খালা মোছাঃ নাছিমা আক্তারের বাসায় গিয়ে তানিয়ার বাসার চাবি দিয়ে জানান, তানিয়া গার্মেন্টসে গেছেন এবং দুপুর ১টার দিকে বাসায় যেতে বলেন। পরে নাছিমা আক্তার তানিয়ার কর্মস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, ওই দিন তানিয়া গার্মেন্টসে যাননি।এরপর তানিয়ার খালা তার বাসায় গিয়ে দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। বাড়িওয়ালার ছেলের বউ শ্রাবন্তীসহ চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে মশারির মধ্যে তানিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার নাক-মুখে রক্তের চিহ্ন ছিল এবং শরীর শক্ত হয়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় তানিয়ার খালা মোছাঃ নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলা নং-২৬, তারিখ-০২/০৮/২০২৬, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড।মামলার ছায়া তদন্তের শুরু থেকেই পিবিআই নারায়ণগঞ্জ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। তদন্তে জানা যায়, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তানিয়া ও সোহাগের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পরিবারের অমতে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। সোহাগের স্থায়ী কোনো কাজ না থাকায় সংসারের অভাব-অনটন নিয়েও প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো বলে তদন্তে উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, সোহাগ তানিয়াকে প্রায়ই মারধর করতেন।মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ১০ আগস্ট পিবিআই নারায়ণগঞ্জ স্ব-উদ্যোগে মামলাটি অধিগ্রহণ করে। এসআই (নিঃ) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনায় এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম)-এর প্রত্যক্ষ ও সার্বিক সহযোগিতায় এসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে।তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের পর সোহাগ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান ঢাকার খিলগাঁও, মেরাদিয়া ও সবুজবাগ এলাকায় শনাক্ত করা হয়। এসব এলাকায় একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।পরবর্তীতে ১১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরগামী একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে মোঃ সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ তানিয়া আক্তারকে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত ১টার মধ্যে সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে তানিয়ার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সোহাগ তানিয়ার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।পিবিআই আরও জানায়, পরদিন ২৬ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তানিয়ার মরদেহ ঘরের ভেতরে রেখে তার নাকে থাকা স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেন সোহাগ। পরে ঘরে তালা দিয়ে তানিয়ার খালা মোছাঃ নাছিমা আক্তারের কাছে চাবি দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।১১ আগস্ট গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ মিয়া জুলহাসকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি তানিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।পিবিআই জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।