উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোঃ আরফান চৌধুরী ||
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের নবগঠিত পহরচাঁদা ইউনিয়নের মছনিয়াখাটা স্টেশন এলাকায় বন বিভাগের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ এবং নির্বিচারে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের জায়গা দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে নাস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মছনিয়াখাটা স্টেশনের রাস্তার উত্তর পাশে সাইফুল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বন বিভাগের জায়গা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে রাস্তার দক্ষিণ পাশে মোঃ আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যক্তি বন বিভাগের জায়গা দখল করে স্থায়ী ফাউন্ডেশন নির্মাণ করে পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট বহুতল দোকানঘর নির্মাণ করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণাধীন দোকানঘরটির সামনের অংশ পুরোনো কাঠের দরজা দিয়ে আড়াল করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। ফলে বাইরে থেকে সহজে নির্মাণকাজের পুরো চিত্র দেখা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানান।স্থানীয়দের ভাষ্য, মছনিয়াখাটা স্টেশনসংলগ্ন এলাকাটি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীন পহরচাঁদা বন বিটের আওতাভুক্ত। সংরক্ষিত বনভূমির এমন এলাকায় স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তৎপরতা না থাকায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, পহরচাঁদা বন বিটের আওতাধীন বন বিভাগের বিপুল পরিমাণ জমি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নজরদারির অভাবে দখলের ঝুঁকিতে রয়েছে। কোথাও গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, আবার কোথাও স্থায়ী ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবন ও দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠছে।তাদের প্রশ্ন—বন বিভাগের জায়গায় প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের নজরে কেন আসছে না?দেশজুড়ে যখন বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে, তখন বিদ্যমান বনভূমি রক্ষা করতে না পারলে এসব কর্মসূচির সুফল কতটা টেকসই হবে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তাদের মতে, নতুন করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি পুরোনো বন ও বন বিভাগের জমি রক্ষা করা জরুরি। বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।অভিযোগের বিষয়ে পহরচাঁদা বন বিট কর্মকর্তা চোরওয়ার সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে গাছ কাটার অভিযোগ, বন বিভাগের জমিতে নির্মাণকাজ এবং বিটের নজরদারি নিয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নিস্থানীয়দের প্রশ্ন, বন বিভাগের জমি যদি দখল হয়ে যায়, গাছ যদি কেটে ফেলা হয় এবং স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকে—তাহলে বন পাহারার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী?অভিযোগগুলো তদন্ত করে মছনিয়াখাটা স্টেশনসংলগ্ন বনভূমির প্রকৃত মালিকানা, দখলের পরিমাণ, গাছ কাটার ঘটনা এবং নির্মাণাধীন স্থাপনার বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা।