উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কক্সবাজার প্রতিনিধি ||
কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দুই জেলার অভিযানে মোট ৫ লাখ ৯৬ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।সোমবার (১০ আগস্ট) বিজিবির পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল উলুবনিয়া গ্রামের জোড়াকাঠি এলাকায় অবস্থান নেয়।ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ব্যাগ হাতে দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাঁদের থামার সংকেত দিলে তাঁরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের আটক করেন।আটক ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফের কাটাখালী হাতিমারা গ্রামের নুর বশর (২২) এবং উলুবনিয়া গ্রামের আবুল ফয়েজ (২৫)।তাঁদের বহন করা ব্যাগ তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটের ভেতর ৩৫টি কার্টনে রাখা ৩ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।বিজিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন জানিয়েছেন, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তাঁরা এসব ইয়াবা বহন করছিলেন।৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের থানায় হস্তান্তর করা হয়।অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের নয়াপাড়া সীমান্তে অভিযান চালিয়ে আরও ২ লাখ ৪৬ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে ৩৪ বিজিবি।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার পাশাপাশি বিদেশি অস্ত্র ও গুলি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় ৩৪ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল নয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।সোমবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে সীমান্তের ৩১ নম্বর পিলার থেকে প্রায় ১৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা যায়নি।সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদারবিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।