উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কামাল পাঠান , সরাইল প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ||
টাকা নিয়েও দলিল না দিয়ে আপন ছোট ভাইকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ৮ নং নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের 'কাটা নিশা মুরাহাটি' এলাকায়। ভুক্তভোগী ছোট ভাই মোঃ দিললর আলী এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর শঙ্কায় গ্রামের মাতব্বর ও সালিশকারীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।ঘটনার বিবরণী: পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মৃত মোঃ শের আলীর বড় ছেলে মোঃ অন্তর মিয়া ও তার স্ত্রী শানু বেগমের কাছ থেকে গত ২০০৮ সালে আপন ছোট ভাই দিললর আলী বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকার জন্য ৭ শতক ৫০ পয়েন্ট জায়গা খরিদ করেন। তৎকালীন সময়ে গ্রাম্য সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে দরদাম চূড়ান্ত করে বড় ভাই অন্তর মিয়ার হাতে নগদ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা বুঝিয়ে দেন দিললর আলী। টাকা প্রাপ্তির পর বড় ভাই অন্তর মিয়া ছোট ভাইকে জায়গার দখল বুঝিয়ে দেন।জায়গা বুঝে পাওয়ার পর দিললর মিয়া নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে নিচু জমিতে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত তিনি ওই বাড়িতে সপরিবারে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। কথা ছিল, অবশিষ্ট টাকা দলিল হস্তান্তরের সময় পরিশোধ করা হবে।দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ও মামলা-মোকদ্দমা:দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও বড় ভাই জমি দলিল করে দিতে গড়িমসি করতে থাকেন। একপর্যায়ে দলিল করে দেওয়ার তাগিদ দিলে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়াঝাঁটি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় পড়ে বড় ভাই অন্তর মিয়া এখন আর জমি দলিল করে দিতে রাজি নন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি এবং পরবর্তীতে মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়ায়।ব্যর্থ হয়েছে গ্রাম্য সালিশ, অসহায় ছোট ভাই:কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী দিললর আলী গ্রাম্য সাহেব-সর্দারদের কাছে নালিশ করেন। মাতব্বরেরা কয়েকবার সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করেন এবং ছোট ভাইয়ের পক্ষে রায় প্রদান করেন। সালিশনামায় গ্রামের গণ্যমান্য সর্দারদের স্বাক্ষরও রয়েছে। কিন্তু বড় ভাই অন্তর মিয়া প্রভাবশালী ও কুচক্রী মহলের মদদে সালিশের রায় অমান্য করে পরদিনই তা অস্বীকার করেন।বর্তমানে সর্দারগণও অন্তর মিয়ার এমন একগুঁয়েমি ও অন্যায়ের কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। তারা ভুক্তভোগী দিললর আলীকে জানিয়েছেন, "তোমার ভাই কথা রাখছে না, আমরা ব্যর্থ হয়ে সালিশনামায় স্বাক্ষর করে দিলাম। এখন তুমি আইনগতভাবে চেষ্টা করে দেখো।"ভুক্তভোগীর আকুতি:কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী দিললর আলী বলেন, গ্রাম বাসির সবাই জানে আমি বড় ভাইয়ের কাচ থেকে নগদ টাকা ও ১৫ শতক জমির বিনিময়ে বাড়ির জায়গা টা ক্রয় করে ছিলাম। আমি আপন বড় ভাইকে বিশ্বাস করেছিলাম। ১৮ বছর আগে টাকা দিয়ে, মাটি কেটে বাড়ি বানিয়ে আজ আমি সপরিবারে বসবাস করছি। এখন কিছু খারাপ মানুষের বুদ্ধিতে আমার ভাই আমার সাথে এই চরম প্রতারণা করছে। দলিলও দিচ্ছে না, উল্টো ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে চায়। এই বউ-বাচ্চা নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"