উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অগ্নিশিখা অনলাইন ||
অগ্নিশিখা: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?সাইফুল হক: ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরে, নির্বাচিত সরকার–রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সব মিলিয়ে এক ধরনের স্থিতিশীলতা আছে বলা যেতে পারে। সরকারের মাত্র পাঁচ মাস সম্পন্ন হলো। সরকারের উপর বিপুল প্রত্যাশা মানুষের। আমার ধারণা সরকার জনপ্রত্যাশা হিসেবে বেশ কিছু ইতিবাচক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এটা কতখানি বাস্তবায়ন করা যাবে সেটা আরেকটা প্রশ্ন। সরকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক স্কোর যেটুকু করার চেষ্টা করছে, পলিটিক্যাল দিক থেকে আমার মনে হয় না সঠিক। খুব ভালো করতে পারছে না। রাজনৈতিক দিক থেকে সরকার অনেক ক্ষেত্রে বরং পিছিয়েছে।আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত উদ্বেগজনক। হত্যা, গুম, খুন, সন্ত্রাস এখনো পর্যন্ত অব্যাহত আছে। মানুষের জানমালের যে নিরাপত্তা, জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা এটা এখনো বড় ঝুঁকির ভিতরে আছে। সরকারের দুটো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ আমি মনে করি, মানুষকে স্বস্তি দেওয়া, জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা, জীবন-জীবিকায় সহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করা। হত্যা, গুম, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। আমি দেখছি, এক্ষেত্রে সরকার এখন পর্যন্ত আস্থা জাগাতে পারেনি। এরকম কার্যকর পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। নির্বাচিত সরকারের আমলে আমরা নিশ্চয়ই মবের কোনো দৌরাত্ম্য দেখতে চাইবো না। এই সরকারের যেহেতু একটা পলিটিক্যাল ম্যান্ডেট আছে। ইলেক্টেড সরকার, তাদের একটা রাজনৈতিক অথরিটি আছে, মোরাল ইথিক্যাল অথরিটি আছে। সেই জায়গা থেকে দেশ চালাতে তাদের একটা রাজনৈতিক সক্ষমতার পরিচয় দেওয়া দরকার। কিন্তু আমি সব ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সক্ষমতার পরিচয় দেখতে পাচ্ছি না। গণভোটের রায়ের ব্যাপারে সরকার পার্লামেন্টে বিল উত্থাপন না করে, আইন না করে, পার্লামেন্টের সংবিধান সংশোধন পরিষদ ঘোষণা না করে সরকার পিছিয়েছে। আমি মনে করি সরকার নিজের, বিএনপির যে অর্জন, অনেকগুলো প্রশ্নে এক ধরনের হাতিয়ার হিসেবে বিরোধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। যেটা আমার ধারণা এক ধরনের আত্মঘাতী চিন্তা, আত্মঘাতী তৎপরতা।আর সামগ্রিকভাবে অন্য দিক থেকে যদি বলি, সরকার বাজেট দিয়েছে মাত্র সাড়ে তিন চার মাসের ব্যবধানে। ভালো উদ্যোগ। বাজেটে একটা চেষ্টা আছে মানুষের নানা অংশকে সন্তুষ্ট করার জন্য। বাজেটে বিশাল যে ঘাটতি বা রাজস্ব সংগ্রহ কোন পর্যায়ে যাবে এটা নিয়ে চ্যালেঞ্জের প্রশ্ন আছে। যদি সদিচ্ছা থাকে এনবিআরকে অ্যাক্টিভ করা যায়, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা যায়, বেশ বড় বাজেটও কার্যকরী করাটা অসম্ভব না। গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে সরকার যুগপৎ আন্দোলনে যেসব শরিকরা দীর্ঘদিন রাজপথে ছিল, এদের সাথে বিএনপি বা সরকারের অর্গানিক কোনো যোগাযোগ, অর্গানিক কোনো এনগেজমেন্ট, জীবন্ত কোনো যোগাযোগ বা সম্পর্ক কার্যকর নেই। এদিক থেকে সরকারের কিছুটা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, কিছুটা একলা চলো নীতি অনুসরণ করছে কিনা এরকম একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। শরিক দলগুলোর সাথে সরকারের এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সন্দেহ অবিশ্বাস এটা বাড়ছে। যদিও তারা আগামী ২০ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগপৎ আন্দোলনের পুরোনো শরিকদের নিয়ে শুভেচ্ছা বৈঠকের আমন্ত্রণ দিয়েছেন। আমরা গতকাল রাতে আমন্ত্রণ পেয়েছি। আমরা যাব। সামগ্রিকভাবে বলতে পারি পাঁচ মাসে তারেক রহমান নিজে একটা কাজের সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তিনি যে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান এরকম একটা বার্তা তিনি দিচ্ছেন। তাঁর গোটা মন্ত্রিপরিষদ বা সরকারের ব্যুরোক্রেসি এটা ঠিক অনুসরণ করতে পারছে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না।অগ্নিশিখা: গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে যুগপৎ আন্দোলন আপনারা দীর্ঘদিন ধরে করছেন, এই জোটের বর্তমান অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করতে চান?সাইফুল হক: বাস্তবে গণতন্ত্র মঞ্চ নির্বাচনের আগে থেকেই এক ধরনের নন-ফাংশনে চলে গিয়েছিল। এটার এক ধরনের ন্যাচারাল ডেথ হয়ে গেছে। গণতন্ত্র মঞ্চে দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের বোঝাপড়ার ঘাটতি, কিছু দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একদল সরকারে আছে, অন্যরা বাইরে আছে। আমি ঢাকা-১২ এ বিএনপির সমর্থন পেয়েছি, ওখানে জিততে পারিনি। আবার কেউ কেউ বিএনপির সমর্থন পাননি। ইত্যাকার নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে আর বাস্তবে আমরা গণতন্ত্র মঞ্চ নির্বাচনের পরে সক্রিয় কোনো এন্টিটি হিসেবে আর নাই। এবং মঞ্চকে সক্রিয় করা যাবে এরকম কোনো আশু সম্ভাবনা আমরা দেখছি না।অগ্নিশিখা: বিএনপির সাথে বামপন্থীদের এক ধরনের ব্যাখ্যাসহ জোট আছে, সামনের দিনগুলোতে এই জোট কতটা কার্যকর থাকবে বলে মনে করছেন?সাইফুল হক: বিএনপির সাথে আমাদের কোনো জোট নেই। আমরা ৩১ দফাতে, যুগপৎ আন্দোলনে ইস্যুভিত্তিক ঐক্য ছিল, রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে ৩১ দফার ভিত্তিতে আমাদের এক ধরনের সমঝোতা ছিল আন্দোলনের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সাথে আমাদের কোনো মোর্চা নাই, জোট–অ্যালাইনমেন্ট এর মধ্যে কখনোই ছিল না এখনো নেই। বিএনপি একটি উদারনৈতিক বুর্জোয়া টাইপ রাজনৈতিক দল, ওয়ার্কার্স পার্টি শ্রমজীবী মানুষের বিপ্লবী ধাঁচের একটি রাজনৈতিক দল। আমাদের আদেশিক পার্থক্য আছে, রাজনৈতিক পার্থক্য আছে, কর্মসূচির পার্থক্য আছে। ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের পরিস্থিতি আমাদের খানিকটা কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। পুরোনো সম্পর্ক, পুরোনো মিত্রতা, পুরোনো সমীকরণ এখন নাও থাকতে পারে।যে বাণিজ্য চুক্তি ইউনূস সরকার স্বাক্ষর করেছে– বিএনপি চুক্তিটি বাতিল করেনি, বেরিয়ে আসার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ ধরনের কাজ যদি অব্যাহত রাখে বিএনপির সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি বা আমাদের মতো দলগুলোর আরো নানা প্রশ্নে বিরোধ-বৈরিতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের পার্টির চিন্তা হলো সরকার কোনো ভালো কাজ করলে সেটার প্রশংসা করব, কোনো পদক্ষেপ যদি মনে হয় দেশের স্বার্থবিরোধী তাহলে আমরা বিরোধিতা করব, প্রয়োজনে রাজপথে থেকে আমরা আমাদের ভয়েসটাকে সামনে নিয়ে আসব। আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টাও আমাদের অব্যাহত থাকবে।অগ্নিশিখা: নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এক ধরনের স্পষ্ট বার্তা ছিল সকলকে নিয়ে সরকার গঠনের, সেই বক্তব্যের বর্তমান অবস্থা কী?সাইফুল হক: বিএনপি তার আগের অবস্থানে নেই, সেটা মোটামুটি স্পষ্ট। যেটা বললাম, মনে হচ্ছে যে বিএনপি মোটামুটি একলা চলো নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপি তার অবস্থানে পরিবর্তন এনেছে, পার্লামেন্টে তার বিপুল বিজয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা তার আত্মবিশ্বাস জন্ম দিয়েছে, কারো কারো ভেতরে হয়ত দম্ভ অহংকারের জন্মও হতে পারে। মনে করতে পারে তারা (বিএনপি) এখন একাই যথেষ্ট। জাতীয় সরকার গঠনে বিএনপির কোনো বাস্তব তৎপরতা আমি দেখিনি। সবাই সরকারে যুক্ত হবে এমপি-মন্ত্রী হবে ব্যাপারটা এরকম না। কিন্তু রাজনৈতিক যে জীবন্ত যোগাযোগ, সম্পর্ক, আলাপ-আলোচনা, বোঝাপড়াও কার্যত নেই। পাঁচ মাসে তারা যে সংসদে সংরক্ষিত আসন অথবা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে, কোনো ব্যাপারেই কোনো শরিকদের সাথে আলোচনা করেনি। অথবা শরিকদেরকে তারা আস্থায় রাখার প্রয়োজন মনে করেনি। তাহলে বোঝা যায় যে বিরোধী দলে থাকলে আচরণ এক রকম আর সরকারে আসলে আচরণ অন্যরকম। ভবিষ্যতে বিএনপি যদি তাদের অবস্থান সংশোধন না করে তাহলে এই দলগুলো বিএনপির বিরুদ্ধে বাস্তব অবস্থান নেবে। এবং একটা আশংকা আছে, বিএনপি হয়ত তার কাজের মাধ্যমে শরিকদেরকে তার বিরোধী শিবিরে ঠেলে দিচ্ছে। এরকম একটা সম্ভাবনা আছে।অগ্নিশিখা: শরিকদের বিরোধী শিবিরে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেও দেখলাম ২০ তারিখ আপনাদের চায়ের দাওয়াত দিয়েছে। কী আলোচনা হতে পারে সেখানে?সাইফুল হক: এটা মনে হচ্ছে একটা শুভেচ্ছা বিনিময়ের দাওয়াত। সরকার গঠনের পর তারেক রহমানের সাথে এ দলগুলোর আনুষ্ঠানিক কোনো দেখাসাক্ষাৎ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিশ্চয়ই তার সরকারের বিষয়ে কথা বলবেন। আমাদের কথা বলার সুযোগ থাকলে সরকারের ভালো দিকগুলো যেভাবে উল্লেখ করব, কোথায় ব্যর্থ হচ্ছে, কোথায় দুর্বলতা সেটা হয়ত তুলে ধরার আমরা চেষ্টা করব। বিএনপি বা সরকারের সাথে আমাদের ৩১ দফার রাজনৈতিক জার্নি যে ছিল, এই জার্নি কি তারা (বিএনপি) এখানেই শেষ করতে চায়, নাকি তারা এগিয়ে নিতে চায়? এগিয়ে নিতে চাইলে কীভাবে এগিয়ে নিবে? যুগপৎ শরিকদেরকে তারা যদি মিত্র মনে করে তাহলে প্রেম তো তার প্রকাশ চাইবে, অভিব্যক্তি চাইবে। আপনি যে আমার সঙ্গে চলবেন তার প্রকাশ কী? অভিব্যক্তি কী? সেটা বিএনপিকে স্পষ্ট করতে হবে বিএনপি সম্পর্কটা কীভাবে নির্মাণ করতে চায়, বিন্যাস করতে চায়, বিএনপি নেতৃবৃন্দ হয়ত সে ব্যাপারে কথা বলবে। সে প্রেক্ষিতে আমরা রেসপন্স করব।অগ্নিশিখা: বলা হয় সাধারণ মানুষের কথা সবচেয়ে বেশি বামপন্থীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোটের হিসাব করলে দেখা যায় বড় এক ঘাটতি। এই ঘাটতি পূরণ কীভাবে সম্ভব বলে মনে করছেন?সাইফুল হক: আমি মনে করি বামপন্থীরা যদি জাতীয় পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক স্রোত হয়ে উঠতে না পারে, ন্যাশনালি পলিটিক্যাল কারেন্ট হয়ে উঠতে না পারলে ভোটের মাঠে এরকম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। বামপন্থীরা সারা বছর জনগণের পক্ষে লড়াই করে রাজপথে থাকে। জনগণের প্রতিটা দাবিতে তারাই প্রথম আন্দোলন করে। দায়িত্ব নেয়, ঝুঁকি নেয়, জীবন উৎসর্গ করে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এসে তারা পিছিয়ে পড়ছে। এই জায়গায় বামপন্থীদের পর্যালোচনা করা দরকার, আত্মসমীক্ষা করা দরকার। আন্দোলনের পর্যালোচনা করে তাদের নীতি কৌশলের কোথায় সমস্যা হচ্ছে সেগুলো ঠিক করা দরকার। আর নির্বাচনে কালো টাকার খেলা, দুর্বৃত্তায়ন আর উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি কালো টাকার ব্যবহার হয়েছে। এগুলো নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের কোনো উচ্চবাচ্য নেই। এই সিস্টেম যদি অব্যাহত থাকে এ ধরনের নির্বাচনি পদ্ধতিতে বামপন্থীরা ভালো করবে না। গোটা নির্বাচনি ব্যবস্থার একটা গণতান্ত্রিক সংস্কার ছাড়া পরিবর্তন হবে না। বামপন্থীদের প্রধানত নেতৃত্বের সংকট আছে। এই রাজনীতি যে অর্থবিত্ত আর টাকার খেলায় পরিণত হয়েছে এটা বামপন্থীদের জন্য সীমাবদ্ধতা। পুরো ব্যাপারটাকে আমি পর্যালোচনা করে মনে করি, বামপন্থীদের জাতীয় স্রোতধারা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হয়ে উঠতে হবে।অগ্নিশিখা: বামপন্থীদের এই শূন্যস্থান কি ধর্মভিত্তিক বা ডানপন্থী দলগুলো পূরণ করছে বলে মনে করেন?সাইফুল হক: এটা খানিকটা আমার উদ্বেগের জায়গা, আমি কিছুটা একমত হব। বামপন্থীরা জাতীয় পর্যায়ে যতটা দুর্বল হচ্ছে, পরোক্ষভাবে দক্ষিণপন্থীরা বা চরম দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি কিছুটা দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। আর অভ্যুত্থানের পরেও আমরা দেখেছি, প্রফেসর ইউনূস সরকারের ঘাড়ে চড়ে রাষ্ট্র প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। এজন্য আমি প্রধানত দায়ী করি শেখ হাসিনা সরকারকে। কারণ একটা দেশে যদি গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকে, মুক্তচিন্তা না থাকে, মুক্তবুদ্ধি না থাকে, মিডিয়া যদি স্বাধীন না থাকে এরকম একটা বদ্ধ জলাশয়ে পোকামাকড়ের জন্ম নেয়। যে নদীতে স্রোত আছে, সে নদীতে কোনো পোকামাকড় জন্ম নিতে পারে না। ফলে এই মৌলবাদের উত্থানের জমিনটা তৈরি হয়েছে শেখ হাসিনার অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার কারণে। এখন যদি দেশে গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই বামপন্থীরা এই গণতান্ত্রিক পরিবেশটা কাজে লাগাতে পারবে। মানুষের মনন জগতে একটা পরিবর্তন এনে মতাদর্শিক কাজ, রাজনৈতিক কাজ, সাংস্কৃতিক সাংগঠনিক কাজ, বহুমাত্রিক কাজের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আবার তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করতে পারবে।অগ্নিশিখা: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি একটি বামপন্থী ধারার রাজনৈতিক দল। তাদের নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে, বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলন করার পর অনেকেই সমালোচনা করছেন। সামনের দিনে আপনার দলের চ্যালেঞ্জগুলো কী এবং তা মোকাবিলা করার জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?সাইফুল হক: আমি তো বলেছি আমরা বিএনপির সাথে কোনো রাজনৈতিক জোট করিনি। আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলন তৈরি করেছি, আর সেখানে আমরা এক ধরনের দায়িত্বশীল গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বলতে পারেন, নেতৃত্বের ভূমিকা আমাদের পালন করতে হয়েছে। আমি প্রায়ই বলেছি বাড়িতে যখন ডাকাত পড়ে আপনি শুধু আত্মীয়-স্বজনদের ডাকেন না, পাড়া-প্রতিবেশী সবাইকে ডাকেন। এরকম একটা পরিস্থিতি ছিল। আমরা কিছু জঙ্গিবাদী মৌলবাদী দল ছাড়া বাকি সমস্ত দলকে রাজপথে যুক্ত করতে চেয়েছি। ফলে আমরা মনে করি আমাদের কৌশল প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের বিপ্লবী মতাদর্শিক রাজনীতি অব্যাহত থাকবে, সরকারের সমালোচনা করব, একই সাথে ভালো কাজের প্রশংসাও থাকবে। এ দেশের মানুষের যে বিপ্লবী ধারা, সেই ধারার রাজনীতি আমাদের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী দিনেও করবে।অগ্নিশিখা: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য অগ্নিশিখার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ।সাইফুল হক: অগ্নিশিখা পত্রিকার জন্য শুভকামনা রইল যাতে তারা আগামীদিনে আরো ভালো করতে পারে।