উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আড়াইহাজার প্রতিনিধি , নারায়ণগঞ্জ ||
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লস্করদী এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত প্রবাসী যুবক সিয়াম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৬টার দিকে নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আড়াইহাজার থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, র্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। এ নিয়ে এ মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত শনিবার রাতে গাজীপুরের একটি এলাকা থেকে হত্যা মামলার ৭ নম্বর আসামি হিরন (২৬)-কে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। পরদিন রোববার তাকে আড়াইহাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এবার মামলার প্রধান আসামি আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তার করা হলো।মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লস্করদী এলাকায় জমির সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি স্থাপনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন বিকেলে আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সীমানার খুঁটি উপড়ে ফেলে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে কম্বোডিয়াপ্রবাসী সিয়ামের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় সিয়াম ছাড়াও দেলোয়ার হোসেন ও খাদিজা বেগম গুরুতর আহত হন।আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সিয়ামের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ জুলাই দুপুরে তিনি মারা যান।এ ঘটনায় নিহত সিয়ামের বাবা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।