উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আড়াইহাজার প্রতিনিধি , নারায়ণগঞ্জ ||
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে ওলিউল্লাহ (নাম প্রকাশিত) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ জাঙ্গালিয়া এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।নিহত ওলিউল্লাহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই পেশার মাধ্যমে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার ৫ জুলাই বিকেল প্রায় ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ওলিউল্লাহ। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাতভর উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটান পরিবারের সদস্যরা।সোমবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে আড়াইহাজার উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্বজনরা।সেখানে গিয়ে তারা মরদেহটি ওলিউল্লাহর বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে উদ্ধার করে।পুলিশ জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।নিহতের বাবা অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওলিউল্লাহর সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে জাঙ্গালিয়া এলাকার একটি স্থানে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতের সর্বশেষ অবস্থান, চলাচলের পথ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে—এমন সম্ভাব্য সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে এবং যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।