উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আলী হোসেন , রিপোর্টার ||
ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পুরাতন তিন চাকা বিশিষ্ট ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, বিকাশ ব্যবসায় ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন, ভিকটিমের ব্যবহৃত ব্যাগ, বিকাশ থেকে উত্তোলিত নগদ ৮৬ হাজার টাকা এবং একটি টিফিন ক্যারিয়ার উদ্ধার করা হয়।শুক্রবার (৩ জুলাই) ফতুল্লা মডেল থানার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই সকাল আনুমানিক ৮টায় ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর বাজারের "সুমাইয়া টেলিকম"-এর ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন নিজ বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৩, তারিখ-০১/০৭/২০২৬) করা হয়।পরদিন ২ জুলাই ভোরে ফতুল্লা থানাধীন জামতলা এলাকার প্যারিসবাগ গেইট সংলগ্ন সড়কের পাশে তোষকে মোড়ানো অবস্থায় একটি অজ্ঞাতনামা পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি মোতালেব হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোতালেব হোসেনকে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার ঘটনা গোপন করতে মরদেহ তোষকে পেঁচিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে জামতলা এলাকার প্যারিসবাগ গেইট সংলগ্ন সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামি মোঃ জাকির হোসেন মোতালেব হোসেনের কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং তাকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাকির তার সহযোগীদের নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। একই সঙ্গে ভিকটিমের মোবাইলের বিকাশ অ্যাপ থেকে টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যও ছিল তাদের।গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— মোঃ জাকির হোসেন (৪৭), পিতা-মোঃ জিন্নাত আলী, মাতা-জাহেদা বেগম, সাং-বীরতারা, থানা-শ্রীনগর, জেলা-মুন্সীগঞ্জ, বর্তমানে-মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরীর মোড় (শীপনের বাড়ির ভাড়াটিয়া), থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ; মোঃ ওমর ফারুক (২২), পিতা-মৃত রানা, মাতা-রীনা বেগম, সাং-সাপাটবাড়ী শারপুকুর, থানা-আদিতমারী, জেলা-লালমনিরহাট, বর্তমানে-মাসদাইর (জনৈক মিজানের বাড়ি), থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ; এবং মোঃ সোহেল (৫১), পিতা-মৃত আঃ মজিদ মিয়া, মাতা-আমেনা বেগম, সাং-মাসদাইর লিচুবাগ (মোহাম্মদ কাজীর তিনতলা বাসা), থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ (ভাসমান)।পুলিশ জানায়, ২ জুলাই রাত ৯টা ১০ মিনিটে মাসদাইর ঈদগাহ এলাকা থেকে মোঃ ওমর ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৯টা ৩০ মিনিটে মাসদাইর এলাকা থেকে মোঃ সোহেলকে তার গ্যারেজ থেকে আটক করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৩ জুলাই ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানাধীন ছেলসারদি এলাকা থেকে হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।আসামিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভিকটিমের ব্যবহৃত একটি TECNO SPARK KM4 অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি NOKIA স্মার্টফোনসহ দুটি বাটন মোবাইল, নগদ ৮৬ হাজার টাকা, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ফতুল্লা শাখার একটি চেক বই ও একটি ভিসা কার্ড, ভিকটিমের দুপুরের খাবারের টিফিন ক্যারিয়ার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পুরাতন তিন চাকা বিশিষ্ট ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ জাকির হোসেন বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।