উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শাহীন আলম, সিলেট ||
সিলেটের এসএমপি এয়ারপোর্ট থানা এলাকার চাঞ্চল্যকর অস্ত্র আইন এবং গুরুতর আঘাত ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় আসামি সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য মো: সেলিম মিয়া (৩৯)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পশ্চিম পীরমহল্লাস্থ নিজ বাসস্থান থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃত সেলিম মিয়া পশ্চিম পীরমহল্লা (পাহাড়ডিকা-১৯) এলাকার মো: তেরা মিয়ার পুত্র।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধৃত আসামি সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে এসএমপি এয়ারপোর্ট থানায় অস্ত্র আইন ও পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল একটি অস্ত্র মামলা এবং গত ২১ মে ২০২৬ তারিখের একটি সঙ্ঘবদ্ধ মারপিট, ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সে দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক ছিল।গত ২৬ এপ্রিল এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পীরমহল্লা এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় রামদা, চালুর কুড়াল এবং জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়। উক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মো: হাসান আহমদের স্বীকারোক্তি ও তদন্তের ভিত্তিতে ল্যাংড়া সেলিমকে অস্ত্র মজুদকারী ও সহযোগী হিসেবে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯/২০ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় (মামলা নং-২২/৬৪) এজাহারনামীয় ২নং পলাতক আসামি করা হয়।গত ২১ মে তারিখ রাতে পশ্চিম পীরমহল্লা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের গেটের সামনে মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগীকে গুরুতর জখম করে নগদ ২ লক্ষ টাকা লুটে নেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় (মামলা নং-৩০/১১৭, ধারা-৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড) ল্যাংড়া সেলিম ১নং এজাহারনামীয় প্রধান আসামি ছিল।দীর্ঘদিন পুলিশি চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকার পর, গতকাল রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসএমপি এয়ারপোর্ট থানার সাব-ইনস্পেক্টর ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তার অবস্থান নিশ্চিত করে। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ঘেরাওপূর্বক তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আসামিকে আজ বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের তথ্য উদঘাটনের জন্য প্রয়োজনে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।