উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অগ্নিশিখা অনলাইন ||
মোঃ রকিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : ‘একসাথে আওয়াজ তুলি, মাদককে না বলি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে চারদিনব্যাপী মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠান, কুইজ প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, প্রদর্শনী, বিতর্ক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে শহরের হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গত চারদিন ধরে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কুইজ প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম (শাহীন)। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এবং সরকারি রাশিদুজ্জোহা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুলতানা সালমা হোসেন।সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন এডুকেটিভ নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সাইফুল ইসলাম (শাহীন) বলেন, “মদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকাসক্তি একটি রোগ, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে দেয়। সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই মাদক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।সভাপতির বক্তব্যে সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, মাদক গ্রহণকারী বন্ধুদের এড়িয়ে চলতে হবে। পরিবার ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। খেলাধুলা, বই পড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলে তরুণরা মাদক থেকে দূরে থাকতে পারবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই মাদকমুক্ত, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, তার পরিবার, শিক্ষা, কর্মজীবন ও সামাজিক অবস্থানকেও ধ্বংস করে দেয়। মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।অনুষ্ঠান শেষে কুইজ, আবৃত্তি, প্রদর্শনী ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মাদককে ‘না’ বলার শপথ গ্রহণ করে এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সক্রিয়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।