উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অগ্নিশিখা অনলাইন ||
বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শ্রমবাজার দ্রুত চালু করা, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয় বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।তিনি বলেন, “আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমবে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পাবে।”দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারযৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ ও জনগণের বন্ধনের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যৌথ কমিশন বৈঠক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের পরামর্শ প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিকেও স্বাগত জানিয়েছি।”তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময়দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে—সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল বিনিময় হয়।বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করবে।মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বানবাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি।”তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।সহযোগিতার নতুন খাতদুই নেতার আলোচনায় যেসব খাত গুরুত্ব পেয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)জ্বালানিঅবকাঠামোজনশক্তিহালাল শিল্পকৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নপ্রতিরক্ষাডিজিটাল অর্থনীতিসেমিকন্ডাক্টর শিল্পঅন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাতরোহিঙ্গা ইস্যু ও আঞ্চলিক সহযোগিতারোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ান-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় এবং সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানের আগ্রহও পুনর্ব্যক্ত করেছে।জাতিসংঘে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবেমধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে মতবিনিময়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান।বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাগত জানাতে পারলে গর্ববোধ করবে।”দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশই ভবিষ্যতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।