উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অগ্নিশিখা অনলাইন ||
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জের আদালতে আত্মসমর্পণ করে পৃথক দুইটি মানহানির মামলায় স্থায়ী জামিন পেয়েছেন। রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কর্মকার পৃথক আদেশে তাকে ১০ হাজার টাকা বন্ডে জামিন প্রদান করেন।আমির হামজার আদালতে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলেও সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি আদালত এলাকায় প্রবেশ করেন এবং জামিন প্রক্রিয়া শেষে বিকেল ৩টার দিকে আদালত প্রাঙ্গন ত্যাগ করেন।আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালেব জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের হওয়া মানহানির মামলায় মুফতি আমির হামজা আগে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছিলেন। পরে স্থায়ী জামিনের আবেদন নিয়ে তিনি চৌহালী আমলি আদালতে হাজির হলে বিচারক শুনানি শেষে তাকে স্থায়ী জামিন দেন।তিনি আরও জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি মানহানির মামলায় সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে ওই মামলাতেও আদালত তাকে স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।সিরাজগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ওসি রওশন ইয়াজদানী জানান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে পূর্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। রবিবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর বিচারক তাকে ১০ হাজার টাকা বন্ডে স্থায়ী জামিন দেন। একইভাবে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায়, যেখানে তার বিরুদ্ধে সমন জারি ছিল, সেখানেও তাকে একই শর্তে স্থায়ী জামিন দেওয়া হয়েছে।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির কর্নেল গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। ওইদিন আদালত তাকে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে ১৭ মে আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।অন্যদিকে, আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম খান গত ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিলেন।এদিকে একই অভিযোগে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম গত ৩০ মার্চ সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার পৃথক মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দায়িত্ব দিয়েছেন।