উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আলী হোসেন , রিপোর্টার ||
প্রচণ্ড রোদ ও তীব্র তাপদাহে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন মানবিক উদ্যোগ নিয়ে পথচারী, শ্রমজীবী, অটোরিকশাচালক এবং দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সীর উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঠান্ডা পানি, ওরস্যালাইন ও খাবার বিতরণ করা হয়েছে।বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন মোড়ে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে তীব্র গরমে কষ্টে থাকা সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পথচারী, পরিবহন চালক, দিনমজুর ও ট্রাফিক সদস্যরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।ঠান্ডা পানি পেয়ে এক অটোরিকশাচালক বলেন, “এই গরমে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালাতে গিয়ে বারবার পানিশূন্যতায় ভুগতে হয়। প্রশাসনের দেওয়া ঠান্ডা পানি ও ওরস্যালাইন আমাদের জন্য অনেক উপকার হয়েছে।”একজন দিনমজুর জানান, “সারাদিন রোদে কাজ করতে হয়। এমন সময়ে একটু ঠান্ডা পানি ও খাবার পাওয়া সত্যিই স্বস্তিদায়ক। আমাদের কথা ভাবার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ।”নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ এম এ করিম বলেন, “প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেও ট্রাফিক সদস্যদের সড়কে দায়িত্ব পালন করতে হয়। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ আমাদের সদস্যদের কর্মস্পৃহা ও মনোবল বাড়িয়েছে।”জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে এই তীব্র গরমেও বাইরে থাকতে হচ্ছে। তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের কল্যাণে কাজ করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।”তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “তাপদাহে সাধারণ মানুষ যেমন কষ্ট পাচ্ছেন, তেমনি পুলিশ সদস্যরাও ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। জনসেবায় পুলিশ সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ।”জেলা প্রশাসন ও পুলিশের এ ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় নাগরিকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।