উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিল্লাল হুসাইন , মাদারীপুর ||
মাদারীপুর সদর ও শেখপুর সংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদসহ অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। আর এই পুরো সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন স্থানীয়ভাবে ‘ড্রেজার সম্রাট’ ও ‘বালুখেকো’ নামে পরিচিত প্রভাবশালী তনাই মোল্লা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে—কখনো বা প্রভাব খাটিয়ে—দীর্ঘদিন ধরে তিনি নদী থেকে কোটি কোটি টাকার বালু লুটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে হুমকিতে পড়েছে সরকারি বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, ব্রীজ এবং নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষের বসতভিটা।ব্রীজের নিচে ও নদে ড্রেজারের দাপট: চলছে বালু লুটস্থানীয় ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শেখপুর ও মাদারীপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে তনাই মোল্লা ও তার চক্র একাধিক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়েছেন। শেখপুর ব্রীজের ঠিক নিচেই সারাদিন ধরে চালানো হচ্ছে আনলোড ড্রেজার। অন্যদিকে, মাদারীপুর অংশে আড়িয়াল খাঁ নদের বুক চিরে চালানো হচ্ছে শক্তিশালী কাটার ড্রেজার।কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নদী থেকে লাখ লাখ কিউবিক ফিট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই বালু বিক্রির জন্য নদীর পাড়েই গড়ে তোলা হয়েছে বিশালাকার অবৈধ বালুর গদি। সেখান থেকে শত শত ট্রাকে করে বালু চলে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়, যার কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলোও ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান,"তনাই মোল্লার লোকজনের ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারি না। বাধা দিলে নানা রকম হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। এভাবে ব্রীজের নিচ থেকে আর নদী থেকে বালু কাটতে থাকলে বর্ষায় আমাদের ঘরবাড়ি সব নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।"হুমকিতে পরিবেশ, জনপদ ও ব্রীজপরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মতে, অপরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা এবং ব্রীজের নিচে ড্রেজার চালানোর কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে তীব্র ভাঙন, বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই আড়িয়াল খাঁ নদের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ব্রীজ ও বাঁধের ক্ষতি: শেখপুর ব্রীজের নিচে ক্রমাগত আনলোড ড্রেজার চলায় ব্রীজের খুঁটি ও ভিত্তি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। পাশাপাশি নিকটবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়ছে।ফসলি জমি বিলীন: নদীর তীরবর্তী কৃষকদের বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি ধসে নদীতে চলে যাচ্ছে।নির্বিকার প্রশাসন? মাঝেমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকদেখানো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও, তনাই মোল্লার এই অবৈধ সাম্রাজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। অভিযানের খবর পেলেই কৌশল বদলে ফেলা হয়, আর কর্মকর্তাদের চলে যাওয়ার পর আবারও শুরু হয় একই ধ্বংসযজ্ঞ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের সাথে গভীর সখ্যতা থাকার কারণেই তনাই মোল্লা আইনের তোয়াক্কা না করে নিজেকে "ড্রেজার সম্রাট" হিসেবে টিকিয়ে রেখেছেন।জরুরি পদক্ষেপের দাবিমাদারীপুর ও শেখপুরের নদী তীরবর্তী মানুষের অস্তিত্ব এবং কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি ব্রীজ রক্ষা করতে হলে তনাই মোল্লার এই অবৈধ বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। পরিবেশ ধ্বংসকারী এই 'বালুখেকো'র বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ীভাবে এসব ড্রেজার বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী জনগণ।