উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আড়াইহাজার প্রতিনিধি , নারায়ণগঞ্জ ||
ঈদুল আজহা সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় আবারও বেড়ে গেছে ডাকাত আতঙ্ক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।বুধবার (১৩ মে) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার মুকুন্দী গ্রামে সংঘটিত হয়েছে একটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা। ডাকাতরা আজগর মাস্টারের দুই ছেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে প্রায় ১৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ডাকাতদের হামলায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একদল মুখোশধারী ডাকাত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুটপাট চালায়। ডাকাতদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। এতে দুইজন আহত হন।চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই ডাকাত দল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে এলাকায় অপরাধচক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সড়ক ও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারির অভাবে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ডাকাতি বা ছিনতাই হচ্ছে। মানুষ এখন রাতে নিরাপদে ঘুমাতেও পারছে না। প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।সচেতন মহল মনে করছে, ঈদকে কেন্দ্র করে অপরাধ প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা থাকায় এখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তারা রাত্রীকালীন টহল বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার এবং ডাকাত চক্র শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ঈদকে সামনে রেখে অপরাধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।