উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আড়াইহাজার প্রতিনিধি , নারায়ণগঞ্জ ||
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী এলাকায় মাদকসহ এক যুবককে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাবেক এক ইউনিয়ন নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।জানা যায় বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামের বাসিন্দা স্বাধীনকে গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দী এলাকা থেকে আটক করে স্থানীয় জনতা। স্বাধীন বিশনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে পরিচিত গাজী মাসুদের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আটক করে তল্লাশি চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, স্বাধীনকে আটকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গাজী মাসুদের পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে গাজী মাসুদের মেয়ের জামাইসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাবেক বিশনন্দী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা নুরুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।সচেতন মহল বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মাদক উদ্ধার, হামলা এবং পরবর্তী সংঘর্ষ—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় নয়—অপরাধের সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।