উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আড়াইহাজার প্রতিনিধি , নারায়ণগঞ্জ ||
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জলধারা হাড়িধোয়া নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে। একসময় যে নদী ছিল এলাকার প্রাণ, জীবিকার উৎস ও কৃষির ভরসা—আজ তা ধীরে ধীরে বিষাক্ত বর্জ্যের স্রোতে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী নরসিংদী এলাকা থেকে আসা শিল্পবর্জ্য ও রাসায়নিক মিশ্রিত পানি প্রতিনিয়ত হাড়িধোয়া নদীতে এসে পড়ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পানির গুণগত মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। পানির রঙ পরিবর্তন, দুর্গন্ধ এবং জলজ প্রাণীর বিলুপ্তি—সব মিলিয়ে নদীটি এখন পরিবেশ বিপর্যয়ের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।নদীটির দূষণের প্রভাব ইতোমধ্যে আশপাশের কৃষিজমিতে পড়তে শুরু করেছে। দূষিত পানি সেচে ব্যবহার করায় ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে চাষাবাদই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, আগের মতো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না, বরং অনেক সময় ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।একজন কৃষক জানান, “নদীর পানি এখন আর ব্যবহার করা যায় না। পানি দিলেই জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”নদীর দূষণের কারণে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন। পরিবেশবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই দূষণ জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।হাড়িধোয়া নদী গোপালদী বাজার থেকে মেঘনা নদী পর্যন্ত নৌ-যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। নদীটি নাব্যতা হারালে এবং দূষণে ভরাট হয়ে গেলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।সচেতন মহল মনে করছে, একটি নদী বাঁচলে বাঁচে একটি জনপদ, একটি অর্থনীতি এবং একটি পরিবেশ। কিন্তু হাড়িধোয়া নদীর বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাস্তবতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা অবিলম্বে দূষণের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করা, শিল্পবর্জ্য শোধন নিশ্চিত করা এবং নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয়রা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, এখনই যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে অচিরেই হাড়িধোয়া নদী পুরোপুরি মৃতপ্রায় হয়ে পড়বে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী রক্ষায় শুধু প্রশাসনের পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ। নিয়মিত মনিটরিং, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।“আসুন, আমরা সবাই মিলে হাড়িধোয়া নদীকে বাঁচানোর জন্য যার যার অবস্থান থেকে সোচ্চার হই”—এমন আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।কারণ, নদী বাঁচলে তবেই বাঁচবে মানুষ, বাঁচবে পরিবেশ, বাঁচবে ভবিষ্যৎ।