উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আড়াইহাজার প্রতিনিধি , নারায়ণগঞ্জ ||
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় দালাল চক্রের সদস্য আজিজকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং উপজেলা ভূমি অফিসে সক্রিয় অন্যান্য দালালদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দালালদের হয়রানি, অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং জটিলতার শিকার হয়ে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত। এ অবস্থায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর অংশ হিসেবে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে দালাল চক্রের সদস্য আজিজকে আটক করে ৩ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পুরো চক্রটি ভেঙে না দিলে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু উপজেলা ভূমি অফিস নয়, বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, ভূমি কর পরিশোধ, জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র সংশোধনসহ নানা সেবায় দালাল ছাড়া কাজ হয় না—এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, সরকারি সেবা সহজ ও স্বচ্ছ হওয়ার কথা থাকলেও দালালদের কারণে সাধারণ মানুষকে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং নানা হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, “শুধু আজিজকে জেল দিলেই হবে না, আড়াইহাজারের প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসে সক্রিয় সব দালালের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। না হলে এই চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠবে।সাধারণ জনগণ দালালমুক্ত ভূমি অফিস গড়তে নিয়মিত অভিযান, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা জনগণের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ও মনিটরিংয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।সচেতন মহলের মতে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান দালালচক্র নির্মূলে একটি ইতিবাচক সূচনা হলেও স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন ধারাবাহিক অভিযান, প্রশাসনিক কঠোরতা এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।