উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আড়াইহাজার প্রতিনিধি , নারায়ণগঞ্জ ||
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে সোহাগী আক্তার সুমি (১৯) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কাইমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নিহত সোহাগী আক্তার সুমি আড়াইহাজার পৌরসভার মুকুন্দী এলাকার নাসির মিয়ার স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে কাইমপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এর জের ধরেই মঙ্গলবার রাতে নিজ ভাড়া বাসার টিনশেড ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সুমি। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার সংবাদ পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সুমি শান্ত স্বভাবের গৃহবধূ ছিলেন। তবে পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, “পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। এমন ঘটনা কেউ কল্পনাও করেনি।”আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন আত্মহত্যার ঘটনা দিন দিন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সচেতন মহল বলছে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনে সামাজিক ও মানসিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে, যা সামাজিকভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি প্রশাসনেরও সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।