উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অগ্নিশিখা অনলাইন ||
রকিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জে ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়া এবং খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এতে একদিকে কৃষকের আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য ফলন নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে ৩৬ হাজার ১১৭টি ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে ডিজেলের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক পাম্প নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না।কাজীপুর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের হাড়িভঙ্গা চর এলাকার কৃষক আবু সালমান জানান, আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১০৫ টাকায় পাওয়া গেলেও বর্তমানে ১৩০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আমি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান ও ৩০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। প্রতিদিন প্রায় ১২ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংকটের কারণে সময়মতো সেচ দিতে পারছি না। ধানের শীষ বের হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পানি না পেলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে প্রতিটি ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের জন্য কার্ড প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান, প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পৌঁছে দিতে প্রশাসন ও সেচ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নভিত্তিক কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং কার্ডের মাধ্যমে ডিজেল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তবে চরাঞ্চলের অনেক কৃষকের অভিযোগ, এখনো পর্যন্ত তারা এ ব্যবস্থার আওতায় আসেননি এবং পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃষকেরা সরাসরি কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তাদের কার্ড প্রদানের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।কৃষকদের দাবি, দ্রুত ডিজেল সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।