উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জামালউদ্দিন, কুমিল্লা ||
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নে অবস্থিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী নিমসার কাঁচা বাজার রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (১লা এপ্রিল) সকালে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জমির মালিকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।মানববন্ধনে অংশ নিয়ে জমির মালিক বাবুল হোসেনসহ ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৬৫ সালে সরকার ১৩৯ শতক জায়গা অধিগ্রহণ করলেও আজ পর্যন্ত পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। অথচ পাওনা পরিশোধ না করেই প্রশাসন বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে, ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।তারা দাবি করেন, সরকার যদি বর্তমানে জায়গা অধিগ্রহণ করতে চায়, তাহলে বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণ ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ না হলে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।বক্তারা বলেন, নিমসার কাঁচা বাজার দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শাক-সবজি ও ফলমূল এখানে আসে এবং সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার। বারবার উচ্ছেদের কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং পণ্য সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে।মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জাসাস সভাপতি আব্দুল মালেক, মো. শাখওয়াত সোহেল, জমির মালিক বাবুর হোসেন, আব্দুল হারুনুর রশিদ, তাজুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন বাবুল, নুরুল ইসলাম, ইয়াছিন, শুভ, নবী নেওয়াজ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তফা, স্বপন মিয়া, মানিক মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।বক্তারা কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসীম উদ্দীনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একইসঙ্গে উচ্ছেদ আতঙ্ক থেকে ব্যবসায়ীদের মুক্তি এবং ন্যায্য পাওনা আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।মানববন্ধন শেষে ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই মাইকিং করে দোকানপাট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বাজারে প্রায় তিন হাজার ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন—এ অবস্থায় উচ্ছেদ হলে ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।জমির মালিকদের পক্ষে বাবুল হোসেন বলেন, নিমসার ও মোকাম মৌজার সড়কের দুই পাশের জমির মালিকানা তাদের পূর্বপুরুষদের। আংশিক ক্ষতিপূরণ পেলেও বাকি অর্থ এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে এবং প্রাপ্য বুঝে নিতে আইনি প্রক্রিয়া চলবে। তিনি দাবি করেন, ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ বার বাজারটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, একটি দুষ্কৃতিকারী সিন্ডিকেটের কারণে তারা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং প্রশাসন বারবার বিনা নোটিশে দোকানপাট উচ্ছেদ করছে।ব্যবসায়ীরা জানান, সড়ক বিভাগ যদি উন্নয়ন কাজ শুরু করে, তবে তারা জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি আছেন। তবে এখনো কাজ শুরু হয়নি এবং ক্ষতিপূরণও বাকি রয়েছে। পাশাপাশি বাজারটি সরকার প্রতিবছর ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।বাজার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ব্যবসায়ী ও জমির মালিকরা।